সূর্যগ্রহণের দৃশ্য
সূর্যগ্রহণের দৃশ্য

ইউরোপে দৃশ্যমান শতাব্দীর সেরা সূর্যগ্রহণ, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাচ্ছে না

আকাশপ্রেমীদের চোখ আজ মহাকাশের এক অনবদ্য দৃশ্যের দিকে। দুই বছর আগে উত্তর আমেরিকায় ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক সূর্যগ্রহণের পর বিশ্বের এক বিশাল অংশ সাক্ষী হতে যাচ্ছে আরেকটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের। ইউরোপ, আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং আমেরিকার কিছু অংশে যখন চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্য, তখন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে এই বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকছে না।

গ্রহণের পূর্ণগ্রাস বা টোটালিটি দৃশ্যমান হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলজুড়ে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে শুরু হয়েছে এই গ্রহণ। প্রায় ২৬৪ মিনিট চলবে এ ঘটনা। রাশিয়া ও উত্তর মেরুর কাছ দিয়ে শুরু হয়ে স্থানীয় সময় বিকেল চারটার পর গ্রিনল্যান্ডের উপকূল ঘেঁষে এগিয়ে যাচ্ছে এই ছায়া। আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিজাভিকে দেখা যাবে এই পূর্ণগ্রাস। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম এবং ২১৯৬ সালের আগে শেষবারের মতো আইসল্যান্ডবাসী সরাসরি পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। আর শেষ দিকে স্পেনের উত্তরাঞ্চল, পর্তুগালের কিছু অংশ এবং বিখ্যাত বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের ঠিক আগে এই পূর্ণগ্রাস শেষ হবে।

যদিও পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব হবে সর্বোচ্চ মাত্র ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের মতো, তবে আংশিক গ্রহণ দেখতে পাবে পৃথিবীর একটি বড় অংশ। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের আকাশে সূর্যের ৯০ থেকে ৯৬ শতাংশ ঢেকে যাচ্ছে চাঁদের আড়ালে। কানাডার অধিকাংশ এলাকা, আলাস্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।

পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদ যখন সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তখন কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো রাতের মতো গোধূলিতে রূপ নেয়। নিমেষেই নেমে আসে শীতল আমেজ। তাপমাত্রা হ্রাস পায় কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত। বিজ্ঞানীদের জন্য এ সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ সময়ে সূর্যের তীব্র আলোর কারণে এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা খালি চোখে দেখা যায় না। তবে পূর্ণগ্রাসের সংক্ষিপ্ত মুহূর্তে এই করোনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে সূর্যের গঠন ও রহস্য উন্মোচনের সুযোগ করে দেয়।

বাংলাদেশিরা সরাসরি আকাশে এই দৃশ্য না দেখলেও, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বের এই অসাধারণ মহাজাগতিক দৃশ্য।

মোবাইল ফোনে ক্রোম ব্রাউজার বা গুগল অ্যাপে কেউ ইংরেজিতে solar-eclipse 2026 লিখে সার্চ করলে বিশেষ দৃশ্য দেখতে পাবেন।

সূত্র: নিউসায়েন্টিস্ট