কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনাকল্পনা এবার বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। গুগলের নতুন উইলো কোয়ান্টাম চিপ এমন এক গণনা সম্পন্ন করেছে, যা বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটারের পক্ষেও প্রায় অসম্ভব। গবেষকেরা নতুন হিসাবকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্যায় হিসেবে অভিহিত করছেন।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার ফ্রন্টিয়ার প্রতি সেকেন্ডে কুইন্টিলিয়ন (১ এর পরে ১৮টি শূন্য) গণনা করতে পারে। অন্যদিকে গুগলের গবেষকেরা দেখিয়েছেন, ৬৫-কিউবিটসম্পন্ন একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক পয়েন্ট বের করতে ফ্রন্টিয়ারের সময় লাগবে প্রায় ৩ দশমিক ২ বছর। অথচ গুগলের কোয়ান্টাম চিপ সেই একই কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ২ দশমিক ১ ঘণ্টায়। গুগল কোয়ান্টাম এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা হার্টমুট নেভেন জানিয়েছেন, ‘আমাদের উইলো কোয়ান্টাম চিপ হার্ডওয়্যারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যাচাইযোগ্য কোয়ান্টাম শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী অ্যালগরিদম প্রদর্শন করেছে।’
গুগলের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কোয়ান্টাম ইকো নামক একটি বিশেষ পদ্ধতি। কোয়ান্টাম স্তরে তথ্য যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা সাধারণ পদ্ধতিতে শনাক্ত করা অসম্ভব। গবেষকেরা তথ্যকে প্রথমে সামনের দিকে প্রবাহিত করেন, তারপর নির্দিষ্ট কিউবিটকে ফ্লিপ বা পাল্টে দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটিকে আবার উল্টো দিকে পরিচালনা করেন। এটি অনেকটা সময়ের চাকা পেছনে ঘোরানোর মতো। এই আসা-যাওয়ার ফলে চিপের ভেতরে একটি ইন্টারফেরোমিটার তৈরি হয়, যা সূক্ষ্ম সংকেতকে বিলীন হতে দেয় না।
এই আবিষ্কার কেবল গতির লড়াই নয়, বরং এর বাস্তব প্রয়োগ এখন অনেক কাছাকাছি। কোয়ান্টাম ইকো পদ্ধতি ব্যবহার করে অণুর গঠন এবং জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার এমন সব সূক্ষ্ম দিক উন্মোচন করা সম্ভব হবে, যা বর্তমান মডেলগুলোতে ধরা পড়ে না। গবেষকেরা একে হ্যামিল্টোনিয়ান লার্নিং হিসেবে অভিহিত করছেন। এ পদ্ধতি নতুন ওষুধ আবিষ্কার বা উন্নত ব্যাটারি তৈরিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
সাফল্য সত্ত্বেও হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি গেট এরর বা গাণিতিক ভুল সিস্টেমকে তার নির্ধারিত পথ থেকে কিছুটা সরিয়ে দেয়। ফলে উল্টো দিকে ফেরার সময় তা শতভাগ নিখুঁত হয় না। কোয়ান্টাম চিপকে আরও স্থিতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত করাই এখন বিজ্ঞানীদের পরবর্তী লক্ষ্য। নেচার সাময়িকীতে এ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: আর্থ ডটকম