
জটিল হিসাব-নিকাশ এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে সুপারকম্পিউটারের ক্ষমতা অতুলনীয়। তবে এই ধারণাকে পেছনে ফেলে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। সম্প্রতি আইবিএমের একটি বাণিজ্যিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার মাত্র ১৯ সেকেন্ডে এমন একটি জটিল কাজ সম্পন্ন করেছে, যা সম্পন্ন করতে একটি সুপারকম্পিউটারের প্রায় ১১০ বছর সময় লাগত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্লু কিউবিট সংস্থার পদার্থবিজ্ঞানী টিগ্রান সেড্রাকিয়ানের নেতৃত্বে একদল গবেষক আইবিএমের ১২০-কিউবিট বিশিষ্ট নাইটহক আর২ প্রসেসর ব্যবহার করে ঐতিহাসিক এই পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
গবেষকদের তথ্যমতে, কম্পিউটার বিটের বিকল্প হিসেবে কোয়ান্টাম কম্পিউটারে কিউবিট ব্যবহার করা হয়, যা জটিল গণনা অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে। গবেষণা চলাকালে গবেষকেরা ৩৬টি সাইকেলের একটি নিখুঁত পর্যায় খুঁজে পান যেখানে সার্কিটটিতে ৯১৮টি টু-কিউবিট গেট বা চৌম্বকীয় পথ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর ফলে আইবিএমের নাইটহক আর২ প্রসেসরটি মাত্র ১৯ সেকেন্ডের মধ্যে ১০ লাখ নমুনা তৈরি করতে সক্ষম হয়। এই বিপুল পরিমাণ তথ্য সুপারকম্পিউটারে বিশ্লেষণ করতে কত সময় লাগবে, তা অনুমান করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল।
টেন্সর-নেটওয়ার্ক কন্ট্রাকশন নামের একটি বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন এই কাজের জন্য প্রায় ১ দশমিক ২ সংখ্যার পরে ২৮টি শূন্য মানের গণনাসংক্রান্ত অপারেশন প্রয়োজন। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এক্সাস্কেল সুপারকম্পিউটার ফ্রন্টিয়ারের দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গবেষকেরা এই ১১০ বছরের হিসাবটি বের করেছেন।
গবেষকরা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন, এই ১১০ বছর ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের জন্য কোনো চূড়ান্ত বা মৌলিক গতির সীমা নয়। তবে এই গবেষণার মূল তাৎপর্য হলো কোনো বিশেষ পরীক্ষাগারের যন্ত্রের পরিবর্তে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ক্লাউড কম্পিউটারে কাজ করা সম্ভব হয়েছে। গবেষক দলটি তাদের ব্যবহৃত সার্কিট, স্যাম্পল এবং অ্যানালাইসিস কোড সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, যাতে অন্যরাও এটি পরীক্ষা করতে পারেন।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট