আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা

সচেতনতার অভাবে নারী ফ্রিল্যান্সারদের প্রত্যাশিত গতি ও দক্ষতা বাড়ছে না

ডিজিটাল শ্রম আইনের অস্পষ্টতা, নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থার অভাব, অংশগ্রহণের ধীরগতি এবং পরিবার ও সামাজিক সচেতনতার ঘাটতির কারণে দেশে নারী ফ্রিল্যান্সারদের প্রত্যাশিত গতি ও দক্ষতা বাড়ছে না। এসব সমস্যার সমাধান না হলে নারীরা ফ্রিল্যান্সিং খাতে প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে যেতে পারবেন না। গত মঙ্গলবার রাজধানীর ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। ‘বাংলাদেশে নারী ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সারদের অবদান, অধিকার ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণার অংশ হিসেবে যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাইটস ফর অল বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)।

বিডিওএসএনের সভাপতি মুনির হাসানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ক্রিয়েটিভ বিজনেস গ্রুপের চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, দেশে নারী ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা ও সামর্থ্য যেভাবে বৃদ্ধি পাওয়া দরকার, সেভাবে হচ্ছে না। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও সংবাদমাধ্যমকে আরও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। প্রশিক্ষণ, বাজারসংযোগ ও দৃশ্যমান রোল মডেল—এই তিন বিষয়ে সমন্বিতভাবে এগোতে না পারলে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো কঠিন হবে।

ডিজিটালি রাইটের হেড অব রিসার্চ আবদুল্লাহ তিতির বলেন, ‘আমাদের দেশের বিদ্যমান শ্রম আইনে ফ্রিল্যান্সারদের অধিকার ও সুরক্ষা দিতে কোনো সুস্পষ্ট কাঠামো নেই। যাঁরা দেশীয় ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করেন, তাঁদের বেশির ভাগই ফেসবুকের মতো যোগাযোগমাধ্যমে কাজ নেন। ফলে কর্মীরা আইনি সুরক্ষা ও প্রতিকার পান না। অনেকেই কাজ করার পর প্রাপ্য মজুরি থেকেও বঞ্চিত হন।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, নারীদের ফ্রিল্যান্স কাজ করা শুধু আয়ের সুযোগ নয়; এটি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অবস্থান পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে নিরাপদ পেমেন্ট সিস্টেম ছাড়া নারী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য টেকসই ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আর তাই অনলাইন সার্ভে ও তথ্য বিশ্লেষণ করে নারী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হবে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন নারী উদ্যোক্তা ও গ্রাফিক ডিজাইনার এমরাজিনা ইসলাম, ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও এজিএম শাকিলুর রহমান, উইট ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাজিব রাফে, ডিকোড ল্যাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ মইনুদ্দিন, টিম মাভিনের উদ্যোক্তা কাজী মামুন, নারী ফ্রিল্যান্সার তানজিলা আক্তার, তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক লেখক রাহিতুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, চলমান গবেষণাটি তিন ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।