আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ডিজিটাল বিশ্বের মূল চালিকা শক্তি হলো মাইক্রোচিপ। সিলিকন বা ছোট চিপের ভেতর থাকে কোটি কোটি ক্ষুদ্র ট্রানজিস্টর বা বৈদ্যুতিক সুইচ। বালি থেকে অদৃশ্য এসব ইনটিগ্রেটেড ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও গণনার কাজ সম্পন্ন করে। থ্রি-ন্যানোমিটারের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে মাত্র এক বালুকণার সমান জায়গায় বসানো যায় প্রায় ২০ কোটি ট্রানজিস্টর।
স্বল্প অর্থলগ্নিতে আলো ব্যবহার করে ওয়েফারের ওপর পরমাণু-পর্যায়ে নিখুঁত সার্কিটরি নকশা ফুটিয়ে তোলে। এরপর রাসায়নিক প্রক্রিয়া ও তাপ সংযোগের মাধ্যমে সার্কিটগুলোর বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একাধিক স্তর সাজানো ধাতব তার নিয়ে এসএফ উপাদানে যুক্ত করা হয়, যার দৈর্ঘ্য হতে পারে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। তবে ট্রানজিস্টরের আকার ছোট করার প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতা (কোয়ান্টাম প্রভাব) ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চিপ তৈরির নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। একটি ক্ষুদ্র সিলিকন ইনগট তৈরি করা হয়। পরে তা কেটে মসৃণ পাতলা চাকতিতে পরিণত করা হয়, যাকে বলে ওয়েফার (সাধারণত ৩০ সেন্টিমিটার ব্যাসের)।
এই ওয়েফারের ওপরই এক হাজারের বেশি বাপে চিপ ও ধারণ তারের সূক্ষ্ম নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। উৎপাদনপ্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ফটোলিথোগ্রাফি। এ কাজে ব্যবহৃত হয় ন্যানোমিটারের এক-দশমাংশের চেয়েও ছোট এক্সরে আল্ট্রাভায়োলেট লিথোগ্রাফি যন্ত্র। এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম নকশায় চিপের ভেতরের খুদে নকশাগুলো কেটে নেওয়ার আধুনিক পদ্ধতিতে ফটোলিথোগ্রাফি। ফটো বা আলো ব্যবহার করে খুদে চিপের বর্তনী তৈরি করা হয়। এরপর বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়া ও তাপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিপগুলোর কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়। একটি ওয়েফারে বা চিপ তৈরিতে প্রায় ৫০০টির বেশি ধাপে কাজ করতে হয়।