স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট-সেবা দিয়ে থাকে স্টারলিংক
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট-সেবা দিয়ে থাকে স্টারলিংক

টেকবার্তা

স্টারলিংক কীভাবে কাজ করে

বিশ্বজুড়ে উচ্চগতির কৃত্রিম উপগ্রহনির্ভর (স্যাটেলাইট) ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে দ্রুত প্রসার ঘটাচ্ছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের ‘স্টারলিংক’। স্থলভাগে কোনো ধরনের অপটিক্যাল ফাইবার তার না টেনেও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, মরুভূমি কিংবা গভীর সমুদ্রে সরাসরি নিরবচ্ছিন্ন নেট–সংযোগ নিশ্চিত করাই এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য।

যেভাবে কাজ করে

প্রচলিত স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে ৩৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি উঁচুতে অবস্থান করায় তথ্য আদান-প্রদানে বেশ সময় লাগে, যা প্রযুক্তির ভাষায় ‘হাই ল্যাটেন্সি’ হিসেবে পরিচিত। বিপরীতে স্টারলিংক ব্যবহার করে পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি থাকা লো আর্থ অরবিট (এলইও) স্যাটেলাইট, যার উচ্চতা সাধারণত মাত্র ৫৫০ কিলোমিটার। এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি তিনটি উপাদান—স্থলভাগের মূল ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত গেটওয়ে বা গ্রাউন্ড স্টেশন, মহাকাশে থাকা হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ এবং গ্রাহকের বাড়িতে বসানো বিশেষ টার্মিনাল বা ডিশ অ্যানটেনা। গ্রাহকের অ্যানটেনাটি খোলা আকাশের নিচে অন্তত ১১০ ডিগ্রি কোণে স্থাপন করতে হয়। স্যাটেলাইটগুলো খুব দ্রুত পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করায় এক উপগ্রহ থেকে অন্যটিতে সংযোগ স্থানান্তরে স্বয়ংক্রিয় ‘বিম সুইচিং’ প্রযুক্তি কাজ করে, যার ফলে তথ্য দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে আদান-প্রদান হতে পারে।

সুবিধা

স্টারলিংকের বড় সুবিধা হলো এর দ্রুত সংযোগ চালুর সক্ষমতা। ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বসাতে মাসের পর মাস ধরে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি ও তার টানার মতো জটিল অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হলেও স্টারলিংকে ডিশ অ্যানটেনা বসিয়ে তাৎক্ষণিক সংযোগ পাওয়া যায়। ফলে যুদ্ধ, ঘূর্ণিঝড় বা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে যখন ভূগর্ভস্থ সব যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়, তখন এটি জরুরি যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

সীমাবদ্ধতা

সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কারণ, সংযোগ নিতে শুরুতেই টার্মিনাল কিনতে হয় এবং পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের গ্রাহক ফি দিতে হয়। স্টারলিংকের গ্রাহকদের ল্যাটেন্সিও বেশি। আবার নেটওয়ার্কের সক্ষমতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। অপটিক্যাল ফাইবারের মতো স্থলভিত্তিক প্রযুক্তির তুলনায় এলইও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা সীমিত। একই এলাকায় বহু গ্রাহক একসঙ্গে ব্যবহার করলে ব্যান্ডউইডথের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। পৃথিবীর কক্ষপথে হাজার হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর কারণে মহাকাশে বর্জ্য বৃদ্ধি এবং এর আলোর প্রতিফলনে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিবেশগত উদ্বেগও বাড়ছে। 

টেকবার্তার সঙ্গে যোগাযোগ: techbarta@prothomalo.com

সূত্র: বেনটন ডটঅর্গ