
মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বিশদ ত্রিমাত্রিক মানচিত্র উন্মোচন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স বার্কলি ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির (বার্কলি ল্যাবের) বিজ্ঞানীরা। মানচিত্রটি তৈরি করতে দীর্ঘ পাঁচ বছর সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মানচিত্রটিতে ৪ কোটি ৭০ লাখ গ্যালাক্সি এবং আরও ২ কোটি নক্ষত্রের ছবি ও তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। মানচিত্রে থাকা সবচেয়ে দূরের গ্যালাক্সিগুলোর আলো ১১ বিলিয়ন বছরের বেশি পুরোনো। এই আলো মহাবিশ্বের জন্মের ঠিক পরবর্তী সময়ের চিত্র তুলে ধরেছে।
মানচিত্রটিতে ডার্ক এনার্জি স্পেকট্রোসকপিক ইনস্ট্রুমেন্টের (ডিইএসআই) মাধ্যমে শনাক্ত করা আলোকে ১০টি স্পেকট্রোগ্রাফের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে প্রতিটি বস্তুর অবস্থান, গতিবেগ এবং রাসায়নিক গঠন নির্ণয় করা হয়েছে। ফলে পৃথিবীর মহাবিশ্বের নির্ভুলতা ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি সম্ভব হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ডার্ক এনার্জির রহস্য সমাধান করা। এটি এমন একটি অদৃশ্য শক্তি, যা মহাবিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশজুড়ে রয়েছে এবং মহাবিশ্বের প্রসারণের গতিকে ত্বরান্বিত করছে। প্রথম তিন বছরের তথ্যে দেখা যায়, ডার্ক এনার্জি আসলে স্থির নয়। ডার্ক এনার্জি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র প্রমাণ করবে, ডার্ক এনার্জির পরিবর্তন আসলে কতটা গভীর। বার্কলি ল্যাবের বিজ্ঞানী ও ডিইএসআইয়ের পরিচালক মাইকেল লেভি বলেন, ‘পাঁচ বছরের এই জরিপ অবিশ্বাস্যভাবে সফল। যন্ত্রটি আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল দিয়েছে। এখন আমরা তথ্যগুলো বিশ্লেষণের কাজ শুরু করব। আমাদের সবার মনে কৌতূহল আর কী কী বিস্ময় এখানে লুকিয়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের গবেষক ও ডিইএসআইয়ের গ্যালাক্সি এবং কোয়াসার ক্লাস্টারিং ওয়ার্কিং গ্রুপের সহসভাপতি শেষাদ্রি নাদাথুর বলেন, মহাজাগতিক গবেষণায় এই মানচিত্রের গুরুত্ব কতখানি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা এখন পর্যন্ত রহস্যের কেবল উপরিভাগ স্পর্শ করেছি।’
২০২৮ সাল থেকে বিজ্ঞানীরা এই জরিপের পরিধি আরও ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্টেফানি জুনো বলেন, ‘আমরা আমাদের মহাবিশ্ব এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়ার জন্য এই কাজ করছি। ডার্ক এনার্জি যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, তবে তা মহাবিশ্বের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আমরা এখন গভীর উত্তেজনার সাথে তথ্যের বিশ্লেষণের অপেক্ষা করছি।’
পদার্থবিজ্ঞানীরা ডার্ক এনার্জি শব্দটি ব্যবহার করেন মহাবিশ্বের একটি রহস্যময় কিছুকে বোঝাতে, যা অস্বাভাবিক সব কাণ্ড ঘটাচ্ছে। সাধারণত মহাকর্ষ বল সবকিছুকে কাছে টানে। কিন্তু ১৯৯৮ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রসারণের গতি সময়ের সঙ্গে বাড়ছে। এ বিষয়ে ডার্ক এনার্জি সার্ভের বিজ্ঞানী ক্যাথি রোমার বলেন, মহাবিশ্ব কেবল বড় হচ্ছে না, এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে। আমাদের ধারণা ছিল, বিগ ব্যাংয়ের ১৪ বিলিয়ন বছর পর এই গতি কমে আসবে, কিন্তু ডার্ক এনার্জি সবকিছুকে বাইরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে
সূত্র: ডেইলি মেইল