মহাকাশ
মহাকাশ

মহাকাশের রহস্যময় ছোট লাল বিন্দুগুলো আসলে কী

মহাকাশ মানেই রহস্য। সেই রহস্য উন্মোচনে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তোলা মহাবিশ্বের শুরুর সময়ের ছবিগুলোতে অদ্ভুত কিছু ছোট লাল বিন্দু দেখা যায়, যেগুলোর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না বিজ্ঞানীরা। ফলে মহাকাশের অমীমাংসিত রহস্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছিল বিন্দুগুলোকে। এবার ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশে থাকা লাল বিন্দুগুলো আসলে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল (কৃষ্ণগহ্বর)। এসব ব্ল্যাক হোল আয়োনাইজড গ্যাসের আবরণে ঢাকা থাকে। ব্ল্যাক হোলগুলোর চারপাশে যখন গ্যাসের আবরণ গ্রাস করে, তখন সেখানে প্রচণ্ড তাপ ও বিকিরণ তৈরি হয়। সেই বিকিরণই গ্যাসের মেঘ ভেদ করে লালচে আভা হয়ে ফুটে ওঠে।

এত দিন বিজ্ঞানীদের অনেকেই ধারণা করতেন, মহাকাশে থাকা লাল বিন্দুগুলো হয়তো মহাবিশ্বের শুরুর দিকে তৈরি হওয়া খুব ছোট আকারের গ্যালাক্সি। কিন্তু অন্য বিজ্ঞানীদের মতে, বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন গ্যালাক্সি দৃশ্যমান হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের বিজ্ঞানী দারাচ ওয়াটসন বলেন, ‘আমরা তরুণ ব্ল্যাক হোলের দ্রুত বেড়ে ওঠার পর্যায় ক্যামেরাবন্দী করেছি। এসব আগে কখনো দেখা যায়নি। তাদের চারপাশের ঘন গ্যাসের আবরণই দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করে। বেশ কয়েকটি লাল বিন্দুর স্পেকট্রাল এমিশন লাইন বা আলোর ছাপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।’

দারাচ ওয়াটসনের তথ্যমতে, ব্ল্যাক হোলগুলো আগের ধারণার চেয়ে আকারে অনেক ছোট। গ্যাস যখন ব্ল্যাক হোলের দিকে ধাবিত হয়, তখন তা একটি ফানেলের মতো ঘুরতে থাকে। গতি ও ঘনত্ব বেড়ে গেলে সেখানে লাখ লাখ ডিগ্রি তাপমাত্রা তৈরি হয় ও উজ্জ্বল আলো নির্গত হয়। লাল বিন্দুর মতো ব্ল্যাক হোলগুলো আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ ছোট হলেও সূর্যের চেয়ে ১০ লাখ গুণ ভারী ও এদের ব্যাস প্রায় ১ কোটি কিলোমিটার।

নতুন এই আবিষ্কার ব্যাখ্যা করছে, কীভাবে বিগ ব্যাংয়ের মাত্র ৭০ কোটি বছর পর সূর্যের চেয়ে ১০০ কোটি গুণ বড় ব্ল্যাক হোলের উদ্ভব হয়েছিল। আসলে এই সব তরুণ ব্ল্যাক হোল তাদের তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ গতি বা এডিংটন লিমিটের মধ্যে খুব দ্রুত দানবীয় আকার ধারণ করতে পারে।

সূত্র: ডেইলি মেইল