আশ্রয়কেন্দ্রটি দিনের বেলা স্কুল এবং দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে
আশ্রয়কেন্দ্রটি দিনের বেলা স্কুল এবং দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে

এমআইটির প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে তৈরি হলো জলবায়ু আশ্রয়কেন্দ্র

তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করতে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে সৌরচালিত কমিউনিটি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) জামিল অবজারভেটরি ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা আশ্রয়কেন্দ্রটি তীব্র গরম এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের রক্ষা করবে।

আশ্রয়কেন্দ্রটি দিনের বেলা স্কুল এবং দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। অঞ্চলের বর্ধিত জলবায়ু হুমকির মুখে থাকা মানুষদের এই কেন্দ্র সুরক্ষা দেবে। সরকারিভাবে তাপপ্রবাহের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে চারটি এসি রুমে ২০০ মানুষ থাকতে পারবে। এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সেখানে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় অতিরিক্ত কক্ষে ৫০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও আশ্রয়কেন্দ্রটি বড় ভূমিকা রাখবে।

জামিল অবজারভেটরি-ক্রুসনেট প্রকল্প মূলত জলবায়ু সহনশীলতার সমাধান তৈরি করতে কাজ করে। এমআইটির পাঁচটি ক্লাইমেট গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের অন্যতম এই প্রকল্প মূলত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চরম পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করে। আর তাই এমআইটির জলবায়ু মিশনের জন্য এই আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা একটি বড় মাইলফলক। বাংলাদেশে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অধ্যাপক এলতাহির বলেন, সাতক্ষীরার বাসিন্দারা যেন তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলা করতে পারে, সে জন্য এই আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনে এই অঞ্চলে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। বয়স্ক ব্যক্তি, হাঁপানিসহ শ্বাসকষ্টের রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশুসহ মায়েরা এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই তালিকায় রয়েছে। ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎ না থাকলেও ব্যাটারি ব্যাকআপের মাধ্যমে এর কার্যক্রম সচল থাকে।

তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জন্য জলবায়ু আশ্রয়কেন্দ্রটিতে রিমোট সেন্সর বসানো হয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ যশোরে দ্বিতীয় জলবায়ু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এই মডেল সফল হলে দক্ষিণ-পশ্চিমের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১ হাজার ২৫০টি জলবায়ু আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র: এমআইটি নিউজ