বিশ্বকাপের ফুটবল চাঁদে যাবে, যদি...
বিশ্বকাপের ফুটবল চাঁদে যাবে, যদি...

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ জিতলে চাঁদে যাবে ফুটবল

মহাকাশ আর ফুটবল মাঠের দূরত্বটা আপাতদৃষ্টিতে অনেক বেশি মনে হলেও এবার তা একবিন্দুতে মিলিয়ে দিচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা—নাসা। ২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন ফুটবলারদের জন্য এক অবিশ্বাস্য ও মহাজাগতিক পুরস্কারের ঘোষণা এসেছে। ফুটবল মাঠের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে পুরস্কার হিসেবে একটি ফুটবল চলে যাবে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের বুকে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ফুটবল দল এর আগে কখনো ফুটবল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। যেখানে দেশটির নারী ফুটবল দল রেকর্ড চারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এবার পুরুষ দলকে অনুপ্রাণিত করতে এক অভিনব ঘোষণা দিয়েছে নাসা। মার্কিন পুরুষ দল যদি ২০২৬ সালের চলমান ফিফা বিশ্বকাপ জয় করতে পারে, তবে চাঁদের বুকে একটি ফুটবল পাঠাবে এই মহাকাশ সংস্থা। একটি অনুষ্ঠানে নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এ ঘোষণা দেন। চাঁদে নাসার স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাসংক্রান্ত এক সভায় তিনি বলেন, মার্কিন দল যদি ট্রফি তোলে, তবে তারা ১৯৭১ সালের অ্যাপোলো ১৪ মিশনের নভোচারী অ্যালান শেপার্ডের কীর্তিকেও ছাড়িয়ে যাবে। আইজ্যাকম্যান মার্কিন দলের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দল, মাঠে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করো। আমরা চাঁদে ফুটবল পৌঁছে দেব। এটি তোমাদের জন্য আমাদের ছোট একটি অনুপ্রেরণা।’

যুক্তরাষ্ট্র এবার মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। মার্কিন দল ইতিমধ্যেই গ্রুপ ডির চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে। তবে মাঠের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। যদি সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন পুরুষ দল শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে ফুটবলটি চাঁদের টিকিট পাবে।

নাসার মুন বেস প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক কার্লোস গার্সিয়া-গ্যালান এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়েছেন। তিনি জানান, মার্কিন দল জিতলে নাসার ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির পেলোডের সঙ্গে এই ফুটবলটিকেও জুড়ে দেওয়া হবে। ফুটবলটি ওজনে বেশ হালকা হওয়ায় এটি মহাকাশযানে বহনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। তবে খেলোয়াড়দের জন্য সামনের পথটা যে অনেক কঠিন, তা রসিকতা করে মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তিনি। গার্সিয়া-গ্যালান বলেন, সবকিছু এখন মার্কিন দলের ওপর নির্ভর করছে, তাই তাদের জন্য শুভকামনা।

চাঁদের মাটিতে খেলার সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার ধারণাটি অবশ্য একদম নতুন নয়। ১৯৭১ সালে অ্যাপোলো ১৪ মিশনের নভোচারী অ্যালান শেপার্ড চাঁদের বুকে একটি গলফ ক্লাব এবং দুটি গলফ বল লুকিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি চাঁদের মাটিতে দাঁড়িয়ে গলফ শট খেলে ইতিহাস তৈরি করেন। নাসা এবার অ্যালান শেপার্ডের সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে সম্পূর্ণ একটি ফুটবল চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের জ্বর অবশ্য নাসাকে এবারই প্রথম ছুঁয়েছে, তেমন নয়। এর আগেও মহাকাশ সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ফিফা ফুটবল পাঠিয়েছে। এমনকি মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত নভোচারীরা পৃথিবী থেকে বহু দূরে কক্ষপথে ভাসমান অবস্থায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেছেন। এবার দেখার বিষয়, মার্কিন ফুটবল দল মাঠের লড়াই জিতে এই ফুটবলকে চাঁদের বুকে পাঠাতে পারে কি না।

সূত্র: এনডিটিভি