বিরল নীলকান্তমণি
বিরল নীলকান্তমণি

৩৫৩৬ ক্যারেটের বেগুনি রঙের বিরল নীলকান্তমণির সন্ধান

শ্রীলঙ্কায় ৩৫৩৬ ক্যারেট ওজনের একটি বিশালাকার বিরল পার্পল স্টার স্যাফায়ার বা বেগুনি রঙের নীলকান্তমণির সন্ধান মিলেছে। স্টার অব পিওর ল্যান্ড নামের এই রত্নপাথরটি প্রাকৃতিক নীলকান্তমণির মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো বিরল নীলকান্তমণিটি প্রদর্শন করা হয়েছে। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার রত্নপুরার একটি খনি থেকে নীলকান্তমণিটি পাওয়া গেলেও তখন কেউ চিনতে না পারায় অন্য সাধারণ পাথরের সঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর ধরে গবেষণার পর জানা যায় এটি আসলে নীলকান্তমণি।

স্টার স্যাফায়ার বা তারকা নীলকান্তমণি তার বিশেষ অপটিক্যাল গুণাবলির জন্য পরিচিত। একে বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাস্টেরিজম বলা হয়। এই বিশেষত্বের কারণে পাথরটির পৃষ্ঠতলে তারার মতো একটি উজ্জ্বল নকশা দেখা যায়। রত্নবিদ আশান অমরাসিংহে জানান, এটি বিশ্বের বৃহত্তম বেগুনি তারকা নীলকান্তমণি। এতে অত্যন্ত স্পষ্ট একটি ছয় রশ্মিবিশিষ্ট তারকা চিহ্ন দেখা যায়। একে অন্যান্য পাথরের চেয়ে অনন্য করে তুলেছে।

রত্নপাথরটির সঠিক বাজারমূল্য এখনো নির্ধারিত না হলেও অমরাসিংহে মনে করেন এর দাম অন্তত ৩০ কোটি ডলার হতে পারে। এই হিসাব সঠিক হলে স্টার অব পিওর ল্যান্ড হবে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান রত্নপাথর। বিজ্ঞানীদের মতে, নীলকান্তমণির ভেতরে রুটাইল খনিজের সূক্ষ্ম উপস্থিতির কারণে তারার মতো আলোকচ্ছটার সৃষ্টি হয়। দ্য ন্যাচারাল স্যাফায়ার কোম্পানি অব ইউএসএর তথ্য অনুযায়ী, একটি আদর্শ স্টার স্যাফায়ারের তারাটিকে পাথরটির ঠিক কেন্দ্রে থাকতে হয়। এর প্রতিটি রশ্মি সমান দৈর্ঘ্য ও উজ্জ্বল হতে হয়।

আন্তর্জাতিক রত্ন বিশারদদের মতে এই পাথরের মূল্য ৩০ কোটি থেকে ৪০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। ফলে এটি ওজন ও মূল্যে অনেক দামি হীরাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর আগে ২০১৬ সালে ১৪ দশমিক ৬২ ক্যারেটের ওপেনহেইমার ব্লু হীরা ৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।

সূত্র: ডেইলি মেইল