আজ ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে চমৎকার কিছু মহাজাগতিক ঘটনা দেখা যাবে। এই পাক্ষিকে রাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল শনি গ্রহ দেখার পাশাপাশি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, শরৎকালীন নক্ষত্রমণ্ডল ও ছায়াপথ দেখার সুযোগ পাবেন মহাকাশপ্রেমীরা।
সেপ্টেম্বরের এই পাক্ষিক শনি গ্রহ দেখার জন্য বছরের সেরা সময়। ১৭ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের দিকে শনি সূর্য থেকে ঠিক ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে থাকবে। সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই পূর্ব-দক্ষিণ–পূর্ব দিগন্তে শনি উদিত হবে এবং সারা রাত ধরে আকাশে অবস্থান করবে। এই সময়ে শনি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করায় একে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল এবং বড় দেখাবে। সাধারণ একটি বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ দিয়ে শনির বিখ্যাত বলয় এবং এর সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটান খুব স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
এই পাক্ষিকের অন্যতম বড় মহাজাগতিক ঘটনা হলো পূর্ণিমা ও আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। শরৎকালের বিষুবসংক্রান্তির সবচেয়ে কাছের পূর্ণিমাকে হারভেস্ট মুন বলা হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আকাশে যে পূর্ণচন্দ্র উঠবে, তা দিগন্তের কাছে আকারে বেশ বড় ও হালকা কমলা বা সোনালি আভায় দৃশ্যমান হবে। ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হবে। গ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপরিভাগের কিছু অংশের ওপর পড়বে, যা খালি চোখেই দৃশ্যমান হবে। বাংলাদেশ থেকেও আকাশের আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গ্রহণের এই দৃশ্য দেখা যাবে।
১৯ সেপ্টেম্বর চাঁদের প্রথম চতুর্থাংশ দেখা যাবে। সন্ধ্যার পর দক্ষিণ আকাশে চাঁদকে অর্ধেক আলোকিত দেখা যাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর হবে শরৎ বিষুব। এদিন সূর্য বিষুবরেখার ঠিক ওপরে অবস্থান করে, ফলে উত্তর গোলার্ধে বাংলাদেশসহ সব জায়গায় দিন ও রাত প্রায় সমান দৈর্ঘ্যের হয়। এই সময়ের পর থেকে দিন ছোট এবং রাত বড় হতে শুরু করে।
সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে গোধূলির আলো কাটতে না কাটতেই শুক্র গ্রহের উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ করা যাবে। এটি সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে বেশ ঝলমলে দেখাবে। বৃহস্পতি গ্রহ প্রধানত গভীর রাত ও ভোরের আকাশে রাজত্ব করলেও সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে রাত ১১টা থেকে ১২টার পর পূর্ব দিগন্তে দেখা যাবে।
সন্ধ্যার পর পুব আকাশে ডানাওয়ালা ঘোড়ার আকৃতির পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডল দেখা যাবে। পেগাসাসের ঠিক পাশেই থাকবে আমাদের নিকটতম গ্যালাক্সি অ্যান্ড্রোমিডা। ১৬ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সন্ধ্যার আকাশ তুলনামূলকভাবে কম আলোকিত থাকবে, ফলে দুরবিন দিয়ে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি বা কালপুরুষের কাছাকাছি অঞ্চলগুলো ভালোভাবে দেখা যাবে।
সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম, সাইটেক