আফ্রিকা মহাদেশ ধীরে ধীরে মাঝ-বরাবর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। বিশাল এক ফাটল বরাবর শুরু হওয়া এই ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে সেখানে একটি নতুন মহাসাগর সৃষ্টি হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অত্যন্ত ধীরগতিতে চললেও এই প্রক্রিয়াটি মহাদেশটির মানচিত্র চিরতরে বদলে দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভাঙনপ্রক্রিয়াটি মূলত পূর্ব আফ্রিকার রিফট অঞ্চল বরাবর ঘটছে। এখানে আফ্রিকার মূল ভূখণ্ড বা নুবিয়ান প্লেট থেকে পূর্ব দিকের সোমালি প্লেট ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর এই প্লেটগুলো মাত্র কয়েক মিলিমিটার করে দূরে সরে যাচ্ছে। উত্তরে নুবিয়ান এবং সোমালি প্লেট দুটি আবার অ্যারাবিয়ান প্লেট থেকেও দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে একটি ইংরেজি ওয়াই আকৃতির রিফট সিস্টেম তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই অঞ্চলটিকে ট্রিপল জাংশন নামে ডাকেন। এখানে ইথিওপিয়ান রিফট, লোহিত সাগর রিফট এবং এডেন উপসাগর রিফটের তিনটি ধারা একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
ইস্ট আফ্রিকান রিফটের এই ভাঙন আজ থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে শুরু হয়েছিল। লোহিত সাগর থেকে মোজাম্বিক পর্যন্ত প্রায় ২১৭৪ মাইল এলাকাজুড়ে এই ফাটল বিস্তৃত। এর পূর্ব শাখাটি ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার মধ্য দিয়ে এবং পশ্চিম শাখাটি উগান্ডা থেকে মালাউই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আফার অঞ্চলের ভূত্বক ইতিমধ্যে বেশ পাতলা হয়ে গেছে। এর কিছু অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত। রিফটের দুটি শাখা ইতিমধ্যে লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের নিচে ডুবে আছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই অঞ্চলের ভূমি যখন আরও নিচে নেমে যাবে, তখন সমুদ্রের জল সেখানে প্রবেশ করতে শুরু করবে। এর ফলে দুই প্লেটের মাঝখানে ধীরে ধীরে একটি নতুন মহাসাগর তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূপদার্থবিদ সারাহ স্ট্যাম্পস জানান, রিফটের উত্তর অংশে প্লেটগুলো তুলনামূলক দ্রুত আলাদা হচ্ছে। তাই নতুন মহাসাগর তৈরির প্রক্রিয়াটি সম্ভবত উত্তর দিক থেকেই শুরু হবে। টেকটোনিক প্লেটগুলো বছরে গড়ে প্রায় ০.২৮ ইঞ্চি করে সরে যাচ্ছে। একটি পূর্ণ মহাসাগর তৈরি হতে কয়েক লাখ লাখ বছর সময় লাগলেও এই ধীর পরিবর্তন এখনই মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উঠে আসা তপ্ত লাভার একটি প্রবাহ আফার অঞ্চলের নিচের ভূত্বককে দুর্বল করে দিচ্ছে। এর ফলে আফ্রিকার ভৌগোলিক কাঠামোতে এই আমূল পরিবর্তন আসছে।
সূত্র: এনডিটিভি