সৌরজগতের শেষ সীমানায় অবস্থিত বামন গ্রহ প্লুটো নিয়ে মানুষের মনে কৌতূহলের শেষ নেই। সূর্যের আলো সেখানে পৌঁছায় অত্যন্ত কম, পুরো জগৎ যেন জমে যাওয়া এক বরফের রাজ্য। কিন্তু গবেষকদের চমকে দিয়ে গ্রহটিতে সম্প্রতি তরল নাইট্রোজেনের খোঁজ মিলেছে। শুধু তা–ই নয়, প্লুটোর বিশালাকার হৃদয় আকৃতির হিমবাহ স্পুটনিক প্ল্যানিটিয়ার উত্তর প্রান্তের ফাটল দিয়ে তরল নাইট্রোজেন ওপরে উঠে আসছে। দ্য প্ল্যানেটারি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, স্পুটনিক প্ল্যানিটিয়া হলো প্লুটোর বিশাল জমে থাকা নাইট্রোজেনের হিমবাহ। এটি আয়তনে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের মোট আয়তনের চেয়ে বড়। ২০১৫ সালে নাসার নিউ হরাইজন্স মহাকাশযানের পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্ধকার রৈখিক চিহ্নগুলো মাঝেমধ্যে সাময়িকভাবে ভেজা বা আর্দ্র হয়ে ওঠে। হিমবাহের নিচ থেকে তরল নাইট্রোজেন ওপরে ওঠায় এমনটি ঘটে থাকে।
গবেষকদের তথ্যমতে, স্পুটনিক প্ল্যানিটিয়ার উত্তরের উপরিভাগের কালচে দাগগুলোর সঙ্গে পৃথিবীর হিমবাহের অনেক মিল রয়েছে। পৃথিবীতে বৃষ্টি বা ভূগর্ভস্থ তরল পদার্থের কারণে যেভাবে হিমবাহের উপরিভাগ ভিজে কালচে হয়ে যায়, প্লুটোতেও ঠিক তেমনটাই ঘটছে। তবে প্লুটোর বায়ুমণ্ডল ও তাপমাত্রার কারণে সেখানে নাইট্রোজেনের বৃষ্টি হওয়া অসম্ভব। তাই তরল নাইট্রোজেন হিমবাহের নিচ থেকেই ওপরের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।
নাসার নিউ হরাইজন্স মিশনের প্রধান গবেষক এবং সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অ্যালান স্টার্ন বলেন, প্লুটো বিজ্ঞানীদের চমকে দেওয়া কখনো বন্ধ করে না। এসব তথ্য প্রমাণ করে যে সম্প্রতি প্লুটোর পৃষ্ঠে তরল পদার্থ পৌঁছেছে এবং এটি সেখানে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল এক নতুন বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি