পৃথিবীর জন্মের বহু আগেই মহাকাশে প্রাণের প্রাথমিক উপাদানগুলো তৈরি হতে শুরু করেছিল বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, নাসার ওসাইরিস-রেক্স মিশনের মাধ্যমে সংগৃহীত গ্রহাণু বেন্নুর ধুলা ও পাথরের নমুনা বিশ্লেষণ করে সেখানে অ্যামিনো অ্যাসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে। অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোটিন তৈরির প্রধান উপাদান। এটি জীবনের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নমুনা মহাকাশ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করায় তা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা পানির সংস্পর্শে আসেনি। ফলে এতে পৃথিবীর কোনো দূষণ থাকার সম্ভাবনা নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, এই জৈব অণুর কয়েকটি কোনো উষ্ণ গ্রহাণু বা তরুণ পৃথিবীতে নয়, বরং আদি সৌরজগতের সুদূর প্রান্তের হিমশীতল বরফে তৈরি হয়েছিল।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বেন্নুর নমুনায় মোট ১৯ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্লাইসিন। এটি সবচেয়ে সরল অ্যামিনো অ্যাসিড। কার্বন ও নাইট্রোজেন আইসোটোপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এর একটি রাসায়নিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট খুঁজে পেয়েছেন। শত শত কোটি বছর আগে সূর্য থেকে অনেক দূরে বিকিরণের প্রভাবে শীতল বরফের স্তরে গ্লাইসিন তৈরি হয়েছিল। এর আগে বিজ্ঞানীরা কার্বনসমৃদ্ধ মার্চিসন উলকাপিণ্ড নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তবে বেন্নুর প্রাপ্তি বেশ ভিন্ন। মার্চিসনের অ্যামিনো অ্যাসিড সম্ভবত তরল জলযুক্ত ছোট গ্রহাণুর ভেতরে তৈরি হয়েছিল কিন্তু বেন্নুর নমুনা আরও প্রাচীন ও গভীর মহাকাশের উৎস নির্দেশ করে।
বেন্নুর নমুনায় নাইট্রোজেন আইসোটোপের মাত্রা অনেক বেশি। কোনো গ্রহের তাপ থেকে দূরে বা গভীর মহাকাশে তৈরির লক্ষণ বলা হচ্ছে একে। বিজ্ঞানীরা গ্লুটামিক অ্যাসিড বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এর দুটি ভিন্ন রূপ আলাদা আইসোটোপিক প্যাটার্ন প্রদর্শন করে। এটি প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায় যে মহাকাশের রাসায়নিক পরিবেশ সব সময় এক রকম বা সুষম। মূলত ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে এই অণুগুলো গঠিত হয়েছিল বলেই এমনটা ঘটেছে।
এই আবিষ্কার প্রমাণ করে আদি পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মহাকাশের গ্রহাণুর মাধ্যমেই পৌঁছেছিল। পৃথিবীর জন্মের আগে থেকেই মহাকাশের বরফে জীবনের উপাদানগুলো সুপ্ত অবস্থায় ছিল এবং কোটি কোটি বছর ধরে এগুলো মহাকাশে ভ্রমণ করেছে। গ্রহাণু বেন্নু আমাদের সামনে সেই আদিম রহস্যের এক জানালা খুলে দিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া