একমাত্র মানুষেরই স্পষ্ট চিবুক বা চোয়ালের নিচের হাড়ের বাড়তি অংশ রয়েছে
একমাত্র মানুষেরই স্পষ্ট চিবুক বা চোয়ালের নিচের হাড়ের বাড়তি অংশ রয়েছে

মানুষের চিবুক কেন আলাদা

মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সবচেয়ে স্বতন্ত্র অংশ কোনটি বলুন তো। আমাদের বুদ্ধিমত্তা বা দ্বিপদশৈলী নিয়ে অনেক কথা হলেও একটি ছোট কিন্তু কৌতূহলোদ্দীপক অংশ হচ্ছে আমাদের চিবুক। আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন, একমাত্র মানুষেরই স্পষ্ট চিবুক বা চোয়ালের নিচের হাড়ের বাড়তি অংশ রয়েছে।

বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নিয়ান্ডারথাল বা ডেনিসোভানদের চোয়াল ছিল সমতল। আমাদের মতো খাঁজকাটা চিবুক তাদের ছিল না। অথচ তারা সোজা হয়ে হাঁটত, জটিল ভাষা জানত এবং সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারত। তাহলে বিবর্তনের ধারায় চিবুক কেন কেবল আমাদের জন্যই রয়ে গেল, সেই রহস্যের সমাধানের জন্য বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে কাজ করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা চিবুকের উদ্ভব নিয়ে বেশ কিছু তত্ত্ব দিয়েছেন। একটি বহুল প্রচলিত তত্ত্ব হচ্ছে, চোয়ালকে শক্ত রাখতে এবং খাবার চিবানোর সময় বাড়তি শক্তি জোগাতে চিবুক তৈরি হয়েছে। কিন্তু দেখা যায় চিবুকের গঠন এমন নয় যে তা চোয়ালের ভার নিতে পারে। অনেকে মনে করতেন, কথা বলার জন্য জিহ্বার নড়াচড়ার চাপে চিবুক তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, জিহ্বার পেশি হাড়ের গঠন পরিবর্তন করার মতো যথেষ্ট শক্তি উৎপাদন করে না। অনেক বিজ্ঞানী আবার মনে করেন, সঙ্গী আকর্ষণ করার জন্য চিবুক বিবর্তিত হতে পারে।

সম্প্রতি পিএলওএস ওয়ান সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা ফলাফলে নৃবিজ্ঞানী নোরিন ভন ক্রামন-টাউবাডেল ও তাঁর দল চিবুকের রহস্য নিয়ে একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা একে বলছেন স্প্যান্ড্রেল। স্থাপত্যবিদ্যার পরিভাষায়, একটি বড় স্থাপনা তৈরির সময় নকশার প্রয়োজনে যে অপ্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা বা অংশ তৈরি হয়, তাকেই বলা হয় স্প্যান্ড্রেল। সহজ কথায়, চিবুক কোনো বিশেষ কাজ করার জন্য তৈরি হয়নি, বরং এটি আমাদের মাথার খুলি এবং চোয়ালের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি উপজাত। নোরিন ভন ক্রামন-টাউবাডেলের ভাষায়, একে একটি বিবর্তনীয় দুর্ঘটনা বলা যায়। প্রকৃতি যখন মানুষের খুলিকে বড় করার এবং মুখমণ্ডলকে ছোট করার কাজে ব্যস্ত ছিল, তখন বিবর্তনের প্রয়োজনে চোয়ালের নিচের হাড়ের গঠন এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যে তাতে চিবুকের এই বাড়তি অংশটি অবধারিতভাবে তৈরি হয়ে যায়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া