
সৌরজগতের বাইরে থেকে আসা রহস্যময় ধূমকেতু সি/২০২৫ কে১ সূর্যের কাছাকাছি যাওয়ার পর ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের জেমিনি নর্থ টেলিস্কোপে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে, সূর্যের তীব্র মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ও সৌর বাতাসের আঘাতে বরফ ও ধুলার সমন্বয়ে তৈরি অ্যাটলাস ধূমকেতুর বিভিন্ন অংশ মহাকাশে কাচের টুকরার মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে এটি একটি বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অপটিক্যাল-ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমি রিসার্চ (নোয়ার) ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ নভেম্বর তোলা ছবিতে ধূমকেতুটিকে নীলচে আভা বিশিষ্ট একটি উজ্জ্বল সাদা রেখার মতো দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি আরও ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে মাউনা কেয়ায় অবস্থিত জেমিনি নর্থ টেলিস্কোপ ধূমকেতুটির এই ভেঙে যাওয়ার মুহূর্তগুলো বিস্তারিতভাবে ধারণ করেছে। ৮.১ মিটার ব্যাসের এই বিশাল টেলিস্কোপটি আন্তর্জাতিক জেমিনি অবজারভেটরি অব অংশ। গত ২৯ জানুয়ারি ধূমকেতুটির ভেঙে যাওয়ার বিস্তারিত ছবি প্রথম প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, গত ৮ অক্টোবর ধূমকেতু অ্যাটলাস সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিল। সূর্যের তীব্র মাধ্যাকর্ষণ ও সৌর বাতাসের যৌথ প্রভাবে এটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অন্তত তিনটি বড় অংশ দেখতে পেয়েছেন, তবে চতুর্থ একটি খণ্ড থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রতিটি টুকরো একে অপরের থেকে প্রায় ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে সরে গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মে মাসে অ্যাটলাস সিস্টেমের মাধ্যমে ধূমকেতুটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়। মহাকাশে কোটি কোটি ধূমকেতু সুপ্ত অবস্থায় থাকলেও মাধ্যাকর্ষণের টানে কোনোটি সূর্যের দিকে চলে গেলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া