নাসা
নাসা

মহাকাশবিজ্ঞানে ঝড় তুলেছে নাসার নতুন স্পেস ইন্টারনেট

উৎক্ষেপণের পর মহাকাশযান কেবল নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। যদি কোনো কারণে নেটওয়ার্ক কাজ না করে, তবে মহাকাশযান নিয়ন্ত্রণের বিকল্প কোনো পথ থাকে না বিজ্ঞানীদের কাছে। মহাকাশযানের সঙ্গে যোগাযোগের এই সীমাবদ্ধতা এবার চিরতরে দূর করতে চলেছে নাসা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যেটি মহাকাশে থাকা একটি মাত্র টার্মিনাল বা যন্ত্র ব্যবহার করেই একাধিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৃথিবীতে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। মহাকাশবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হচ্ছে স্পেস ইন্টারনেট। এরই মধ্যে ‘পেক্সট’ নামের প্রযুক্তিটির প্রাথমিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে নাসা।

নাসা জানিয়েছে, খুব সহজ, কিন্তু প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে পেক্সট প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। স্মার্টফোন যেমন নেটওয়ার্ক বা ট্রাফিকের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে ব্যবহার করতে পারে, পেক্সট ঠিক সে কাজটিই করবে মহাকাশে। এর ফলে মহাকাশযান তার সুবিধামতো যেকোনো স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।

নাসার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই ইয়র্ক স্পেস সিস্টেমসের বার্ড মহাকাশযানে পেক্সট টার্মিনাল মহাকাশে পাঠানো হয়। এটি মূলত কেএ–ব্যান্ড স্পেকট্রামে কাজ করে। বর্তমানে সরকারি ও বাণিজ্যিক—উভয় ধরনের স্যাটেলাইট সিস্টেমে এই কেএ–ব্যান্ড ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর উচ্চ কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সির কারণে বিপুল পরিমাণ ডেটা বা তথ্য চোখের পলকে পৃথিবীতে পাঠানো যায়। পেক্সট এরই মধ্যে মহাকাশের ভিন্ন পরিবেশ থেকে নাসার স্যাটেলাইট সিস্টেমের পাশাপাশি ভায়াস্যাট ও এসইএস স্পেস অ্যান্ড ডিফেন্সের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পৃথিবীতে তথ্য পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। এই তিন নেটওয়ার্কের প্রতিটিরই নিজস্ব গ্রাউন্ড টার্মিনাল, ফ্রিকোয়েন্সি ও আলাদা প্রটোকল রয়েছে। পেক্সট সফলভাবে এই তিন মাধ্যমের সঙ্গেই যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছে। বর্তমানে পেক্সটের নতুন ধাপের পরীক্ষা চলছে, যাকে বলা হচ্ছে ডাইরেক্ট–টু–আর্থ কমিউনিকেশন। এর মাধ্যমে মহাকাশযান কোনো রিলে স্যাটেলাইট ছাড়াই সরাসরি পৃথিবীতে থাকা গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, নাসার আর্টেমিস প্রকল্পের আওতায় চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসবাস ও মঙ্গল গ্রহে মানববাহী মিশনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে পেক্সট। নাসার তথ্যমতে, চাঁদের ঘূর্ণনের কারণে যখন কোনো মহাকাশযান অপর প্রান্তে চলে যায়, তখন পৃথিবীর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আবার মঙ্গল গ্রহের ক্ষেত্রে বার্তা পৌঁছাতে ২৪ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে। এমন পরিস্থিতিতে মহাকাশযান যদি নিজে থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক বেছে নিতে পারে, তবে মিশনের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া