
নিরাপদ এনক্রিপশন পদ্ধতি আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ যৌথভাবে এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ টুরিং পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন পদার্থবিদ চার্লস এইচ বেনেট ও কানাডার কম্পিউটারবিজ্ঞানী গিলেস ব্রাসার্ড। পুরস্কার হিসেবে যৌথভাবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পেয়েছেন তাঁরা। তাঁদের গবেষণা নিরাপদ যোগাযোগ এবং কম্পিউটিংয়ের সংজ্ঞাকে নতুন করে লিখিয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি (এসিএম)। ব্রিটিশ গণিতবিদ অ্যালান টুরিংয়ের নামে পরিচিত কম্পিউটারবিজ্ঞানের নোবেলখ্যাত এই পুরস্কার দিয়ে থাকে সংস্থাটি।
৮২ বছর বয়সী চার্লস বেনেট নিউইয়র্কের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান আইবিএমের একজন ফেলো। অন্যজন ৭০ বছর বয়সী গিলেস ব্রাসার্ড, অধ্যাপনা করছে মন্ট্রিয়ল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁদের এই ঐতিহাসিক সহযোগিতার শুরুর ঘটনা ছিল বেশ নাটকীয়। ১৯৭৯ সালে পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তাঁদের পরিচয় হয়। সে সময় বেনেট নিজেই ব্রাসার্ডের কাছে এমন একটি ব্যাংক নোট তৈরির ধারণা প্রস্তাব করেন, যা কখনোই জাল করা সম্ভব নয়। সেই থেকে শুরু। এরপর কয়েক দশকের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণায় তাঁরা কোয়ান্টাম ফিজিকসের ওপর ভিত্তি করে এক অনন্য এনক্রিপশন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এটি মূলত ইলেকট্রন ও ফোটনের মতো বস্তুকণার আচরণের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
বর্তমানে প্রচলিত এনক্রিপশন প্রযুক্তিগুলো মূলত অত্যন্ত জটিল গাণিতিক বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে। অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা, ভবিষ্যতে যখন আরও শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার আসবে, তখন বর্তমানের এই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সহজেই ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে। এতে বৈশ্বিক তথ্যের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। এই সংকট মোকাবিলায় বেনেট এবং ব্রাসার্ডের ‘বিবি৮৪ তত্ত্ব’টি এক যুগান্তকারী সমাধান। এই পদ্ধতিতে কোনো কোয়ান্টাম এনক্রিপশন কি হ্যাক করার বা নকল করার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে সেটির মৌলিক উপাদানের আচরণ বদলে যায়। ফলে এটিকে হুবহু নকল করা গাণিতিকভাবে অসম্ভব।
অ্যাসোসিয়েশন অব কম্পিউটার মেশিনারি তাদের এই কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছে, ডিজিটাল যোগাযোগ সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে তাদের এই উদ্ভাবন একটি শক্তিশালী মহাসড়ক হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে যখন পৃথিবী আরও বেশি ডেটা শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, তখন তাদের এই তত্ত্বই হবে নিরাপদ যোগাযোগের মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: বিবিসি