এক বছরের বেশি সময় পর আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বীকৃতি ফিরে পেয়েছে অ্যাপল। গতকাল শুক্রবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষে বাজারমূল্যের দিক থেকে এনভিডিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের এপ্রিলের পর এই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির অবস্থানে ফিরল অ্যাপল। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকার বদলে যাওয়াই এ পরিবর্তনের মূল কারণ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, গতকাল লেনদেন শেষে অ্যাপলের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৮৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে এক দিনেই এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য নেমে আসে প্রায় ৪ লাখ ৮৬ হাজার কোটি ডলারে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির শীর্ষস্থান হারায় এনভিডিয়া।
চলতি বছরে অ্যাপলের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক কৌশল, তুলনামূলক কম মূলধনি ব্যয়, সফটওয়্যার ও সেবাভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। বিপরীতে একই সময়ে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত স্মৃতি চিপ ও তথ্যকেন্দ্র–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে থাকায় এনভিডিয়ার প্রতি আগের মতো ঝোঁক দেখা যাচ্ছে না। এর সুফল পেয়েছে মাইক্রন টেকনোলজি ও স্যান্ডিস্কের মতো স্মৃতি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রথম ধাপে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছিল চিপ ও হার্ডওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এখন বিনিয়োগকারীদের নজর ধীরে ধীরে এমন প্রতিষ্ঠানের দিকে যাচ্ছে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সরাসরি সাধারণ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার অংশ করে তুলতে পারবে। এই পরিবর্তিত প্রত্যাশার কেন্দ্রেই রয়েছে অ্যাপল। গত মাসে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিরি ভার্চ্যুয়াল সহকারীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সংস্করণ উন্মুক্ত করেছে অ্যাপল। এর মাধ্যমে গুগল, মাইক্রোসফটসহ অন্যান্য প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় অ্যাপলের দীর্ঘদিনের অবস্থানও প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। তবে গোপনীয়তার সেই নীতি অক্ষুণ্ন রেখেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বাড়ানো অ্যাপলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেই তথ্যের বিশ্লেষণী সক্ষমতাও কাজে লাগাতে হবে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বেশি মূল্য পাওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রি করে অন্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করেছেন অনেক বিনিয়োগকারী। এর ফলে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক চাপের মুখে পড়েছে সেমিকন্ডাক্টর–শিল্প। গতকাল এর প্রভাব দেখা যায় বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই দিনে এএমডির শেয়ার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, অ্যাপ্লায়েড ম্যাটেরিয়ালসের শেয়ার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মাইক্রন ও স্যান্ডিস্কের শেয়ার প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্সের যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত শেয়ারের দাম একপর্যায়ে ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে গেলেও পরে তা ঘুরে দাঁড়ায়। দিন শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ হয়। তবে সপ্তাহের হিসাবে শেয়ারটির দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া