কূটনীতিক বরিসের অকূটনৈতিক মন্তব্য

বরিস জনসন
বরিস জনসন

ইইউ প্রশ্নে গণভোটের পর থেকে যুক্তরাজ্যে নাটকীয় ঘটনার সাম্প্রতিকতম সংযোজন বরিস জনসনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া। অনেকেরই মত, নতুন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ঠোঁটকাটা এই নেতাকে দেশের সর্বোচ্চ কূটনীতিক নিয়োগ করে ঠিক করেননি।

অনেকেরই মতে, লন্ডনের সাবেক এই মেয়র নতুন এ দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত নন। কারণ, সাবেক এই সাংবাদিক তাঁর ইচ্ছাকৃত উসকানিমূলক আচরণ, একমাথা এলোমেলো চুলের কিছুটা ছন্নছাড়া চেহারা এবং অবমাননাকর লেখার জন্য পরিচিত।

দুই মাস আগেও যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল সাপ্তাহিক স্পেকটেটরআয়োজিত একটি কবিতা প্রতিযোগিতায় বরিস জনসন প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে নিয়ে রচিত ওই কবিতাটি অশ্লীল আর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে ভরা।

মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতেও জনসন সব সময় পশ্চিমা ভাবধারার বিপরীতে চলেছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ যখন পুরো পশ্চিমা বিশ্বের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন, তখন বরিস মেতেছেন তাঁর প্রশংসায়। 

একবার আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের জনসন ‘তরমুজের হাসি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ জন্য তাঁকে পরে ক্ষমাও চাইতে হয়। একবার তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘ঔপনিবেশিক শাসনের মাধ্যমে আফ্রিকাকে এখনো ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।’

ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি টেলিগ্রাফ-এ ২০০৭ সালে হিলারি ক্লিনটন সম্পর্কে জনসন লিখেছিলেন, ‘কুঞ্চিত ঠোঁট আর নীল চোখের স্বর্ণকেশী হিলারিকে কোনো মানসিক হাসপাতালের বিষণ্ন নার্স বলে মনে হয়।’ সে সময় হিলারি পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে লড়ছেন। ওই কলামে বরিস জনসন লেখেন, ‘বিল ক্লিনটনকে হোয়াইট হাউসে ফেরাতে হলে আমেরিকানদের হিলারিকেই ভোট দেওয়া উচিত।’ তাঁর রগড় থেকে রেহাই পাননি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও। তাঁর সম্পর্কে জনসন লেখেন, ‘বিল যদি হিলারিকে সামলাতে পারেন, তাহলে তিনি যেকোনো বৈশ্বিক সংকট সামাল দিতে পারবেন।’