বিচিত্র

চালক কচুরি খেতে থামান ট্রেন

ট্রেন থামিয়ে কচুরি নেওয়ার সেই দৃশ্য। সংগৃহীত
ট্রেন থামিয়ে কচুরি নেওয়ার সেই দৃশ্য।  সংগৃহীত

রোজ সকালে তেলে ভাজা কচুরি খেতে এক ট্রেনচালকের মন আনচান করে ওঠে। এ জন্য প্রায়ই তিনি ক্রসিংয়ে ট্রেন থামিয়ে ফেলেন। তাঁকে এ কাজে সাহায্য করতেন রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের আলওয়ার জেলায়।

ভারতের হিন্দি ভাষার দৈনিক ভাস্কর জানায়, প্রায় প্রতিদিনই ওই চালক (লোকো পাইলট) আলওয়ারের দাউদপুর রেলক্রসিংয়ে এমন কাণ্ড করতেন। সাধারণত দেখা যেত, সকাল আটটার দিকে ওই ট্রেন দাউদপুর ক্রসিংয়ে আসত। আর সেখানকার গেটম্যানরা রেলক্রসিং বন্ধ করে দিতেন। এরপর ক্রসিংয়ে নিয়োজিত কর্মীরাই কাছের দোকান থেকে আলওয়ারের বিখ্যাত খাস্তকচুরি ট্রেনে চালকের জন্য পৌঁছে দিতেন। আর এতে প্রতিদিনই শত শত যাত্রীকে পড়তে হতো চরম অসুবিধায়।

ট্রেন থামিয়ে কচুরি নেওয়ার এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি অনলাইনে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, লোকো পাইলট ট্রেনটি দাউদপুর ক্রসিংয়ে এনে থামান। আর এক লোক কচুরির একটি পুঁটলি নিয়ে ট্রেনের দিকে এগিয়ে আসেন। অন্যদিকে রেলক্রসিং বন্ধ থাকায় অনেকে মোটরসাইকেল, স্কুটি ও অন্যান্য গাড়ি নিয়ে পর পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছেন। একপর্যায়ে ওই লোক কচুরির পুঁটলিটা রেলের বগিতে থাকা একজনের হাতে তুলে দেন। এরপর ট্রেনটি চলতে শুরু করে।

এ ঘটনায় ওই চালকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকব্যবস্থা নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ভাস্করের প্রতিবেদনে বলা হয়, দৃশ্যটি ভাইরাল না হলে আর এ নিয়ে গণমাধ্যম প্রতিবেদন না করলে হয়তো এখনো চলমান থাকত লোকো পাইলটের ওই কাণ্ড।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে জয়পুরের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার নরেন্দ্র কুমার পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এর মধ্যে দুজন লোকো পাইলট, দুজন গেটম্যান ও একজন ইনস্ট্রাক্টর রয়েছেন।

আলওয়ার স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আরএল মিনা লোকো পাইলটের ওই কাণ্ডের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘লোকো পাইলট নিজের ইচ্ছেমতো ইঞ্জিন বা ট্রেন থামাতে পারেন না। কচুরির জন্য এভাবে থেমে যাওয়া অন্যায়।’