
পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গিদের ওপর চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলা চালানোর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, এই হামলা ‘স্রেফ আত্মরক্ষার’ যুদ্ধ। এর মাধ্যমে আরও নিরাপদ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান ও ড্রোন কর্মসূচি বিষয়ে দেওয়া এক ভাষণে ওবামা এসব কথা বলেন। ড্রোন হামলার প্রয়োজনীয়তা, আইনি বৈধতাসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।
ওবামা তাঁর ভাষণে দাবি করেন, মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের ক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার আইনসিদ্ধ, কার্যকর ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র। তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে এভাবে হামলা চালানোর মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হবে না। এসব হামলার ঘটনায় উদ্দেশ্যহীনভাবে বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার ঘটনা তাঁকে নাড়া দিয়েছে বলেও জানান ওবামা।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন শুরু থেকে ড্রোন হামলার সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এর পরও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভাষণের আগে ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন, এখন পর্যন্ত ইয়েমেন ও পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
নিহত মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে আল-কায়েদার আরব উপদ্বীপ শাখার (একিউএপি) নেতা আনওয়ার আল-আওলাকিও রয়েছেন। আওলাকির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে। ২০১১ সালে তিনি ইয়েমেনে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। সামির খান নামের আরেক মার্কিনি আওলাকির সঙ্গে ড্রোন হামলায় নিহত হন। এর এক মাস পর ইয়েমেনে ড্রোন হামলায় আওলাকির তরুণ ছেলে আবদুর রহমানও নিহত হন। তাঁর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে।
২০০৮ সালে নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা জুড কেনান মোহাম্মদ পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হন। বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকা জঙ্গি-অধ্যুষিত একটি অঞ্চলে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুড কেনান মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা করা হয়। তিনি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিখোঁজ হন। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জুড কেনান মোহাম্মদ ২০১১ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে ড্রোন হামলায় নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
ড্রোন হামলায় চার মার্কিন নাগরিকের নিহত হওয়ার বিষয় নিয়েও কথা বলেন ওবামা। এই হত্যাকাণ্ডের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, যাদের এখনই না থামালে তারা আরও অনেক মার্কিন নাগরিককে মারবে।’