
শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী দেশটির প্রয়াত বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল গেরিলা নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের ভূগর্ভস্থ একটি আস্তানা (বাংকার) মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার রুয়ান ওয়ানিগাসুরিয়া গত শুক্রবার এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
চার বছর আগে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সরকারি বাহিনীর অভিযানে প্রভাকরণ নিহত হন।
সেনা মুখপাত্র ওয়ানিগাসুরিয়া বলেন, সম্ভাব্য ভূমি মাইন ও ‘সন্ত্রাসবাদের অপচ্ছায়া’ অপসারণের লক্ষ্যে প্রভাকরণের বাংকারটি গত বৃহস্পতিবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। চারতলা বাংকারটি ছিল মাটির ১৬৫ ফুট নিচে। এর অবস্থান উত্তর শ্রীলঙ্কার মুল্লাইতিভুর পুথুক্কুদিরিরুপ্পু এলাকায়। সেখানেই ২০০৯ সালে এক লড়াইয়ে নিহত হন দুর্ধর্ষ গেরিলা নেতা প্রভাকরণ। সরকারি সেনারা তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলেকেও কিছুক্ষণ পরই হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তামিলদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘদিন লড়াই করা সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) আরও অন্তত ১০০টি বাংকার ধ্বংস করা হয়েছে। এলটিটিইর বিরুদ্ধে প্রায় চার দশকব্যাপী লড়াই করেছে সেনাবাহিনী। ২০০৯ সালে যুদ্ধ অবসানের পর বিদ্রোহী সংগঠনটির নেতা প্রভাকরণের বাংকারটি একটি পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল। এর ভেতরে ছিল শব্দহীন বৈদ্যুতিক জেনারেটর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, নজরদারি ক্যামেরা, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও কিছু অস্ত্র।
এলটিটিইর বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী চূড়ান্ত লড়াইকালে এক মাসে প্রায় ৪০ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ। তবে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই যুদ্ধে ১৯৭২ থেকে ২০০৯ সালের মে পর্যন্ত অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত হয়।
এলটিটিই গেরিলারা স্বাধীনতার জন্য লড়লেও অন্তত ৩০টি দেশ একে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। সংগঠনটির বিরুদ্ধে নৃশংসতা ও জোর করে বাহিনীতে সদস্য নিয়োগের অভিযোগ ছিল। শ্রীলঙ্কা সরকার তিন বছর আগে প্রভাকরণের পূর্বপুরুষের ভিটাবাড়ি ও তামিল গেরিলাদের অনেকের সমাধিও ধ্বংস করে। এএফপি ও বিবিসি।