পার্লামেন্টে শিশুসন্তান আনায় এক নারী রাজনীতিককে বের করে দেওয়া হলো। ঘটনাটি জার্মানিতে ঘটেছে। রাজ্য পার্লামেন্টে ভোটাভুটির সময় শিশুসন্তানকে সঙ্গে এনেছিলেন। শিশুটির বয়স ছয় সপ্তাহ। ঘটনাটি সন্তান আছে—এমন রাজনীতিকদের সমস্যা তুলে ধরেছে।
সিএনএনের এক খবরে বলা হয়, পূর্ব কেন্দ্রীয় জার্মানির থুরিনজিয়া রাজ্য পার্লামেন্টে গত বুধবার গ্রিন পার্টির সদস্য মাডেলেইন হেনফ্লিং তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে ভোট দিতে চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর অংশগ্রহণে খুব কম সময় লাগত।
কিন্তু হেনফ্লিংকে থুরিনজিয়া স্টেট পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট—ক্রিশ্চিয়ান কারিয়াস—জানিয়ে দেন, সংসদের ফ্লোরে শিশুসন্তান আনার অনুমতি নেই। বিষয়টির ওপর আলোচনার সময় অধিবেশন আধা ঘণ্টা স্থগিত ছিল।
থুরিনজিয়া রাজ্যের বর্তমান আইন অনুসারে রাজ্য পার্লামেন্টের ভেতরে শিশু-কিশোরদের যাওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
সংসদের উপদেষ্টা কমিটি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দেয়, হেনফ্লিং তাঁর শিশুকে সঙ্গে আনলে সংসদের অধিবেশন ফ্লোরে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এরফার্টে থুরিনজিয়ার রাজ্য পারলামেন্টে কোনো শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র নেই। পরদিন বৃহস্পতিবার সংসদে আসার সময় হেনফ্লিং শিশুর পরিচর্যার জন্য তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন।
কারিয়াসের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে হেনফ্লিং সিএনএনকে বলেন, ‘এটি চিরাচরিত বয়স্ক পুরুষের চিন্তা। আমি অনেক পুরুষকে চিনি, যাঁদের চিন্তা অন্য রকম। কিন্তু আপনি যখন কাউকে বলেন, তোমার উচিত শিশুটিকে বেবিসিটারের কাছে রাখা, যে মায়ের বুকের দুধ পান করে, তখন সেটা বাস্তবতা নয়। একজন মায়ের জন্য নয়। তিনি জানেন না একটা সন্তানকে নিয়ে আপনাকে কত সমস্যা পোহাতে হয়। সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া। কারণ, এই বয়সের শিশু বেশির ভাগ সময় ঘুমায়।’
২০১৭ সালে কুইন্সল্যান্ডের সাবেক সিনেটর লারিসা ওয়াটার্স প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে দেশের পার্লামেন্টে দুই মাস বয়সীকে বুকের দুধ খাইয়েছিলেন।