ফিদেল কাস্ত্রো
ফিদেল কাস্ত্রো

ফিরে দেখা

আইনজীবী থেকে যেভাবে বিপ্লবী হয়ে উঠেছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো

কিউবান বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবার্ষিকী আজ ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার। পরাক্রমশালী যুক্তরাষ্ট্রের পেটের ভেতর থেকে যে বিপ্লব তিনি করেছিলেন, তা–ও ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। তাঁর শাসনকালের পুরোটা সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অসম লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁকে নিয়ে আজকের আয়োজন।

হাভানা থেকে ওয়াশিংটন—দূরত্ব মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার। অথচ এই সামান্য দূরত্বের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন। একদিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পুঁজিবাদী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক বিপ্লবী—ফিদেল কাস্ত্রো।

১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট জন্ম নেওয়া ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবার্ষিকী আজ ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার। ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ৯০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও কিউবার রাজনীতি, লাতিন আমেরিকার বামপন্থী আন্দোলন এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর ছায়া এখনো দীর্ঘ।

প্রায় পাঁচ দশক কিউবা শাসন করেছেন ফিদেল কাস্ত্রো। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় এসেছেন ১০ জন প্রেসিডেন্ট। কাস্ত্রো তাঁদের প্রত্যেককে অতিক্রম করে ক্ষমতায় থেকেছেন। ২০০৬ সালে অসুস্থতার কারণে ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে ক্ষমতা তুলে দেন এবং ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়েন।

কাস্ত্রোর গল্প অবশ্য প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে শুরু হয়নি। শুরু হয়েছিল এক তরুণ আইনজীবীর ক্ষোভ থেকে।

মনকাদা থেকে বিপ্লবের শুরু

পূর্ব কিউবার চিনি উৎপাদনকারী অঞ্চলে বড় হয়েছেন ফিদেল। তাঁর বাবা ছিলেন স্প্যানিশ অভিবাসী; প্রথমে মার্কিন চিনি কোম্পানিতে কাজ করলেও পরে নিজেই বড় খামারের মালিক হন। জেসুইট স্কুলে পড়াশোনার পর হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়েন ফিদেল।

১৯৫২ সালে ফুলজেনসিও বাতিস্তা সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করলে কিউবার গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তরুণ আইনজীবী ফিদেল তখন সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেন। ১৯৫৩ সালের ২৬ জুলাই সান্তিয়াগো দে কিউবার মনকাদা সেনা ব্যারাকে হামলা চালান তিনি ও তাঁর অনুসারীরা। অভিযান ব্যর্থ হয়। বহু সঙ্গী নিহত হন। ফিদেল ও তাঁর ভাই রাউল গ্রেপ্তার হন।

কিন্তু কারাগারই কাস্ত্রোকে জাতীয় রাজনীতির বড় মঞ্চে নিয়ে আসে। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যকে তিনি রাজনৈতিক ইশতেহারে পরিণত করেন। সেখানেই উচ্চারিত হয় তাঁর বিখ্যাত প্রত্যয়, ‘ইতিহাস আমাকে মুক্তি দেবে।’

সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পাওয়ার পর মেক্সিকোতে চলে যান ফিদেল কাস্ত্রো। সেখানে বিপ্লবীদের সংগঠিত করে ১৯৫৬ সালে ‘গ্রানমা’ নামের ইয়টে করে কিউবায় ফিরে আসেন। উপকূলে নামার পর সরকারি বাহিনীর আক্রমণে বিপ্লবীদের বড় অংশ নিহত বা ছত্রভঙ্গ হয়। বেঁচে থাকা যোদ্ধাদের নিয়ে সিয়েরা মায়েস্ত্রা পর্বতে আশ্রয় নেন ফিদেল। সেখানেই শুরু হয় গেরিলা যুদ্ধের নতুন অধ্যায়।

তিন বছরের লড়াই, তারপর হাভানা

পাহাড়ে বসে কাস্ত্রো শুধু গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেননি; তৈরি করেছিলেন জনসমর্থনও। বাতিস্তার শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছিল। ১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে বাতিস্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ৮ জানুয়ারি বিপ্লবী ক্যারাভান নিয়ে হাভানায় প্রবেশ করেন কাস্ত্রো। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি হয়ে ওঠেন লাতিন আমেরিকার অন্যতম তরুণ শাসক।

প্রথম দিকে কাস্ত্রো বলেছিলেন, তাঁর লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয়। সেই আশ্বাসে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ তাঁর সরকারকে স্বীকৃতিও দিয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

কাস্ত্রো শুরু করেন ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার। জমি ও বড় সম্পত্তি পুনর্বণ্টন, বিদেশি মালিকানাধীন সম্পদ জাতীয়করণ এবং রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করা হয়। বাতিস্তা সরকারের সদস্যদের বিচার করা হয়; মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় শত শত মানুষের।

গণমাধ্যমের ওপরও আঘাত আসে। স্বাধীন সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যায়। রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বন্দীর সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কিউবার বহু নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। একই বিপ্লব তাই কারও কাছে মুক্তির প্রতীক আবার কারও কাছে নতুন এক দমনমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার সূচনা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি

কাস্ত্রো যত দ্রুত সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকতে থাকেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক তত দ্রুত খারাপ হয়। যুক্তরাষ্ট্র কিউবার চিনি কেনা বন্ধ করে দেয়। জবাবে কাস্ত্রো কিউবায় থাকা বিপুল মার্কিন সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। এরপর ওয়াশিংটন ব্যাপক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ১৯৬১ সালের ৩ জানুয়ারি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়।

এরপর আসে কিউবার ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়গুলোর একটি। ১৯৬১ সালের ১৬ এপ্রিল কাস্ত্রো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক ঘোষণা করেন। পরদিন সিআইএ-সমর্থিত প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিউবান নির্বাসিত ‘বে অব পিগস’-এ আক্রমণ চালায়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযান ব্যর্থ হয়।

কাস্ত্রোর জন্য এটি ছিল বিরাট রাজনৈতিক বিজয়। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত আগ্রাসন প্রতিহত করে তিনি কিউবার বিপ্লবের বৈধতা আরও শক্ত করেন।

এরপরও কাস্ত্রোকে হত্যার চেষ্টা থামেনি। কিউবার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কাস্ত্রোকে হত্যার জন্য অসংখ্যবার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এসব দাবির কিছু নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কাস্ত্রোকে উৎখাত ও হত্যার জন্য মার্কিন গোপন তৎপরতার বিষয়টি ঠান্ডা যুদ্ধের ইতিহাসে সুপ্রতিষ্ঠিত।

পৃথিবী যখন পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে

বে অব পিগসের এক বছর পর দেখা দেয় আরও ভয়ংকর সংকট। ১৯৬২ সালের অক্টোবরে কিউবায় সোভিয়েত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কিউবার চারপাশে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেন।

১৩ দিন ধরে পৃথিবী অপেক্ষা করছিল—যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন কি পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে? শেষ পর্যন্ত নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিতে রাজি হন। সংকটের অবসান ঘটে। কিন্তু কিউবা তখন ঠান্ডা যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক কেন্দ্র।

বিপ্লব শুধু কিউবার জন্য ছিল না

ফিদেল কাস্ত্রোর প্রভাব কিউবার সীমানায় আটকে থাকেনি। লাতিন আমেরিকার বহু বিপ্লবী তরুণের কাছে কিউবা হয়ে ওঠে প্রেরণার প্রতীক। কাস্ত্রোর সরকার আফ্রিকার উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামেও ভূমিকা নেয়। অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াইয়ে কিউবান সামরিক সহায়তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক ও শিক্ষক পাঠানো হয়।

কাস্ত্রোর কিউবা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন আনে। সর্বজনীন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা, নারীর অধিকার ও জাতিগত সমতার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিপ্লবের পর ব্যাপক সাক্ষরতা অভিযান চালানো হয়।

কিউবার চিকিৎসাব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায়। কিউবা ক্রীড়াক্ষেত্রেও ছোট দেশের তুলনায় অসাধারণ সাফল্য দেখায়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তর্জাতিক মিশনও হয়ে ওঠে কিউবার বৈশ্বিক পরিচয়ের অন্যতম অংশ।

বিপ্লবের অন্ধকার দিক

কাস্ত্রোর উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কের সবচেয়ে বড় জায়গা এখানেই। বিপ্লব রাজনৈতিক বহুত্ববাদ সীমিত করে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম বন্ধ হয়। শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে পড়ে। পাড়ায় পাড়ায় ‘বিপ্লবী প্রতিরক্ষা কমিটি’ গড়ে তুলে নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানো হয়। রাজনৈতিক বন্দী ও নির্বাসনের ঘটনাও তাঁর শাসনের কঠিন বাস্তবতা।

সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিল কাস্ত্রোর নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে তিনি ছিলেন সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের নিছক অনুগামী—এমন ব্যাখ্যাও পুরোপুরি যথেষ্ট নয়। স্তালিনের ব্যক্তিপূজা ও দমননীতির সমালোচনা করতেন তিনি; আবার সোভিয়েত সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও সব সময় প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি।

কিউবার কঠিন সময়

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন কিউবার অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধাক্কা হয়ে আসে। কিউবার জন্য শত শত কোটি ডলারের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ও ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যায়। ‘বিশেষ সময়’-এর কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে কাস্ত্রোকে সীমিত ব্যক্তিগত ব্যবসা ও বিদেশি পুঁজির জন্য কিছুটা জায়গা খুলে দিতে হয়। পরে পর্যটনশিল্পের বিকাশে অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আবার শক্ত হয়। এ সময়ও কাস্ত্রোর স্লোগান বদলায়নি—সমাজতন্ত্রই তাঁর পথ।

২০০৬ সালে অসুস্থতার পর কাস্ত্রোর ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ২০০৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের পদ ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে তুলে দেন। কিন্তু অবসরেও তিনি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। রাউলকে সমর্থন করেছেন। আর জীবনের শেষ দিকে সবচেয়ে প্রতীকী পরিবর্তনটি দেখেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।

২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ও হাভানা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘোষণা দেয়। দীর্ঘ শত্রুতার পর এটি ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাস্ত্রো সতর্কভাবে হলেও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। দুই বছর পর, ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ফিদেল কাস্ত্রো মারা যান। বয়স হয়েছিল ৯০।

ইতিহাসের রায় এখনো অসম্পূর্ণ

ফিদেল কাস্ত্রোকে এক কথায় বিচার করা সম্ভব নয়। তিনি যেমন বাতিস্তার স্বৈরশাসন উৎখাত করে কিউবার রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন, তেমনি নিজেও গড়ে তুলেছিলেন দীর্ঘস্থায়ী একদলীয় শাসন। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এনেছিলেন আবার রাজনৈতিক বিরোধিতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করেছিলেন।

কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ছোট একটি দ্বীপের প্রতিরোধের প্রতীক ছিলেন আবার একই সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ঠান্ডা যুদ্ধের ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতা ছিল কিংবদন্তির মতো। ১৯৬০ সালে জাতিসংঘে তাঁর ২৬৯ মিনিটের ভাষণ দীর্ঘ সময় বিশ্ব সংস্থার দীর্ঘতম ভাষণের রেকর্ড ধরে রেখেছিল।

আর মৃত্যুর কয়েক মাস আগে, ২০১৬ সালের এপ্রিলে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে প্রায় ৯০ বছর বয়সী কাস্ত্রো বলেছিলেন—শিগগিরই তিনিও অন্যদের মতো হয়ে যাবেন, কিন্তু কিউবান কমিউনিস্টদের আদর্শ পৃথিবীতে থেকে যাবে।

সত্যিই, মানুষটি চলে গেছেন। কিন্তু ফিদেল কাস্ত্রো এখনো কিউবার ইতিহাসে এক জীবন্ত প্রশ্ন। একটি ছোট দেশ কি পরাশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের পথ তৈরি করতে পারে?

কাস্ত্রোর উত্তর ছিল—হ্যাঁ। আর ইতিহাসের পাল্টা প্রশ্ন—বিপ্লব যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিণত হয়, তখন সেই বিপ্লব কি স্বাধীনতা বৃদ্ধি করে, নাকি নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে? এই দুই প্রশ্নের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে ফিদেল কাস্ত্রোর উত্তরাধিকার। এক শতক পরও তাই তাঁর গল্প শেষ হয়নি।

কারণ, ফিদেল কাস্ত্রো শুধু একজন মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি বিপ্লবের নাম, একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার নাম এবং প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে থাকা এক অসম রাজনৈতিক লড়াইয়ের নাম।

তথ্যসূত্র: এপি, আমেরিকান ম্যাগাজিন, কাউন্টারভিউ, বলকান ইনসাইট