
ইরাকের উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামে বসবাসরত ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের অন্তত ৮০ জন পুরুষকে গতকাল শুক্রবার হত্যা করেছে সুন্নিপন্থী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধারা। এ ছাড়া ওই গ্রামের অনেক নারী ও শিশুকে অপহরণ করেছে তারা।
আজ শনিবার বিবিসির অনলাইন ও এএফপির খবরে জানানো হয়, গতকাল বিকেলে উত্তরাঞ্চলের সিনজার শহরের ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কোচো গ্রামে প্রবেশ করে আইএস যোদ্ধারা। তারা গ্রামটির পুরুষদের শর্ত দেয়, হয় তাদের ইসলাম বেছে হতে হবে, নয় তো মরতে হবে।
শর্তে রাজি না হওয়ায় গ্রামটির একমাত্র স্কুলের সামনে বাসিন্দাদের জড়ো করা হয়। এরপর এক ঘণ্টা ধরে গুলি করে নির্বিচারে পুরুষদের হত্যা করা হয়। পরে নারী ও শিশুদের বাসে তুলে অনিশ্চিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ব্যক্তি ও ইরাকের জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা হোশিয়ার জেবারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে পার্শ্ববর্তী এক গ্রামের বাসিন্দা জানান, আইএসের যোদ্ধারা কোচো গ্রামে পাঁচ দিন অবস্থান করে গ্রামবাসীকে ধর্মান্তরিত করানোর চেষ্টা চালান। এ বিষয়ে তারা দীর্ঘ বক্তব্যও দেয়। ওই ব্যক্তি জানান, নারী ও শিশুদের অপহরণের পর তাল আফার শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ওপর আইএসের এ নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্যরা সংগঠনটির ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, কাউজু গ্রামে বেসামরিক মানুষদের ওপর আইএসের যোদ্ধারা হামলা চালাচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সকালে সিনজারের কাছে আইএসের দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।