এবার রেসিংয়ের রোমাঞ্চ চান সৌদি নারীরা

রানা আলমিমনি
রানা আলমিমনি

নাম রানা আলমিমনি। বয়স ৩০। হেলমেট পরে বসে ছিলেন রুপালি রঙের স্পোর্টস সেডানে। সেই গাড়ি নিয়ে রিয়াদ পার্কের আশপাশে মোটর রেসিংয়ের নানা কায়দা অনুশীলনের চেষ্টা করছিলেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ আগে সৌদি নারীদের গাড়ি নিয়ে এমন করার চিত্র অকল্পনীয় থাকলেও এটা এখন বাস্তব। আর গাড়ি চালানোর সুযোগ পাওয়া নারীদের অনেকেই এখন আলমিমনির মতো মোটর রেসিংয়ের রোমাঞ্চ পেতে চান।

রক্ষণশীল সৌদিতে দীর্ঘদিন নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এখন অনেক নারী গাড়ি চালান। তবে তাঁদের মধ্যে যাঁরা গতিপ্রিয়, তাঁরা গাড়ি নিয়ে মরুভূমিতে চলে যান। অনেক গতিতে গাড়ি চালান। আলমিমনি যেমন বললেন, ‘আমি গতি পছন্দ করি। গতি ভালোবাসি।’

আলমিমনি আরও বলেন, অনেকের ধারণা যে সৌদি নারীরা শুধু গোলাপি রং আর সুন্দর সুন্দর আকারের গাড়ি পছন্দ করেন। এটা খুবই ভুল ধারণা। অনেকেই তাঁর মতো মোটর রেসিং করতে যান। সরকার মোটর রেসিংয়ের নিবন্ধন দেবে তিনি সে আশায় আছেন।

জয়রাইডিং ইন রিয়াদ নামের একটি বইয়ে লেখক পেসকেল মেনরেত বলেছেন, তরুণেরা দ্রোহের প্রতীক হিসেবে গতি পছন্দ করেন। তাঁরা মনে করেন, এটাই সত্যিকারের পুরুষের বৈশিষ্ট্য। তবে এবার সে ধারণা ভাঙার সময় এসেছে। তরুণীরাও গতি পছন্দ করছেন।

এর সত্যতা পাওয়া গেল ফালাহ আল-জারবা নামের এক গাড়ি প্রশিক্ষকের কথায়। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গতিতে আঁকাবাঁকা সড়কে গাড়ি চালানোর কৌশল শিখতে চাইছেন অনেক নারী। সৌদির জাতীয় মোটর ফেডারেশনের প্রথম নারী আসেল আল-হামাদ গতিপ্রিয় এসব নারীর অনুপ্রেরণা। নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া উদ্‌যাপন করতে গত জুনে আসেল ফ্রান্সে ফর্মুলা ওয়ানে অংশ নেন।

তবে গতিপ্রিয় নারীদের অনেকেই বাঁকা চোখে দেখতে চাইছেন। রিয়াদের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাগওয়া মওসা (৫৭) বলেন, ‘আমি রাস্তায় গাড়ি চালাতে পেরে খুশি। তবে নারীরা রাস্তায় নেমে ওভারটেক করুক বা গতিসীমা লঙ্ঘন করুক, সেটা আমি চাই না। গাড়ি চালানোর অধিকার নারী স্বাধীনতার পথকে এগিয়ে দিয়েছে, তবে রাস্তায় নারীদের সংযতই দেখতে চাই।’

নারীদের মধ্যে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় কিছু সংকটও সৃষ্টি হয়েছে। প্রশিক্ষকের তুলনায় প্রশিক্ষণার্থী বেশি হয়ে যাওয়ায় অনেকে গাড়ি চালানো শেখানোর জন্য বেশি অর্থ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অনেক নারী অভিযোগ করেছেন, রাস্তায় পুরুষ চালকেরা যৌন হয়রানিমূলক ও আগ্রাসী ব্যবহার করে থাকেন। তবে গাড়ি চালানোর সুযোগ নারীকে প্রকৃত স্বাধীনতা দিচ্ছে না বলে মনে করেন ওয়াশিংটনে আবর গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের ক্রিস্টিন দেওয়ান। তিনি বলেন, সৌদি সরকার নারীদের জন্য বিনোদনের সুযোগ বাড়াচ্ছে। তবে রাজনৈতিক মত প্রকাশের জায়গাগুলো সংকুচিত করছে।