
আফগানিস্তানে কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে তালেবান। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এ তথ্য দেন। খবর বিবিসির।
আফগানিস্তানে নারী অধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে তালেবানের বিরুদ্ধে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল তালেবান। ওই সময় শরিয়াহ আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করেছিল তারা। সে সময় নারীশিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এ ছাড়া নারীর একা বাইরে যাওয়া ও ঘরের বাইরে তাঁদের কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
তবে এবার কিছুটা সুর বদল করার ইঙ্গিত দিয়েছে তালেবান। ১৫ আগস্ট কাবুলের পতনের পর তারা জানায়, এবারের মেয়াদে নারীদের নিয়ে বিভিন্ন নীতিতে পরিবর্তন আনা হবে। আর কর্মজীবী নারীদের এই ঘরে থাকার নির্দেশনা সাময়িক সময়ের জন্য বলে জানান জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।
সংবাদ সম্মেলনে তালেবানের এই মুখপাত্র বলেন, ‘নারীদের সঙ্গে কীভাবে আচার-ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয় আমাদের নিরাপত্তারক্ষীরা। তাদের অনেকেই নারীদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, তাও জানে না। যতক্ষণ না নিরাপত্তার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারছি, আমরা নারীদের ঘরে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আফগান নাগরিকদের সেখানে ভিড় না করতে বলেন জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। দেশ ত্যাগ করতে চাওয়া এসব লোককে আফগানিস্তানের প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানদের দেশ ছাড়তে আগ্রহী করে তুলছে।
তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার পর হুমকির মুখে দেশত্যাগে মরিয়া হয়ে ওঠে অনেক আফগান। তারপর থেকে কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় করে হাজার হাজার মানুষ। কাবুল বিমানবন্দর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ।