
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হের (৬৬) সাজার মেয়াদ বাড়িয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর সাজার মেয়াদ ১ বছর বাড়িয়ে ২৫ বছর করেছেন সিউল হাইকোর্ট।
আজ শুক্রবার এএফপির খবরে জানানো হয়, দুর্নীতির অভিযোগে গণবিক্ষোভের মুখে পার্ক গিউন-হেকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই কোটি ডলার অর্থ নেওয়া বা ঘুষ দাবি, রাষ্ট্রের গোপন নথি পাচার, তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করা শিল্পী, সমালোচকদের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারে যেসব কর্মকর্তা বাধা দিয়েছেন, তাঁদের চাকরিচ্যুত করার অভিযোগে পার্ক গিউন-হে এপ্রিল মাসে অভিযুক্ত হন। তাঁকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১০ মাসের বিচার-প্রক্রিয়া চলার সময়ে তাঁর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ব্যবসায়ীদের সম্পর্কের বিষয়গুলো তুলে আনা হয়। পার্ক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী চই সুন-সিল সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত হন।
ওই সময় তাঁকে ২৪ বছরের জেল দেওয়া হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা ৩০ বছরের কারাদণ্ড চেয়ে আপিল করেন।
আজ দক্ষিণ কোরিয়ার হাইকোর্ট বলেছেন, পার্ক তাঁর বন্ধু চইয়ের সহযোগিতায় ‘অর্থ দাবি করেন এবং অন্যান্য সুবিধা নেন’। তিনি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তাদের পদত্যাগেও বাধ্য করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার করেন। তাঁর কাছের মানুষদের সুবিধা দেন এবং স্বাধীন মতপ্রকাশে ভয়াবহভাবে বাধা দেন।
আগের রায় ঠিক রেখে আদালত পার্কের সাজার মেয়াদ ২৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ২৫ বছর করেছেন। সেই সঙ্গে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার জরিমানা আরোপ করেছেন।
এই রায়ের সময় পার্ক আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি এর আগেও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেননি। বিচার-প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত দাবি করে তিনি আদালতের কার্যক্রম বর্জন করে আসছেন। দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে অবৈধ অর্থ নেওয়ার অভিযোগে পৃথক বিচারে আদালত তাঁকে ৮ বছরের সাজা দেন। এই দুটো সাজা কার্যকর হওয়ার অর্থ ৬৬ বছর বয়সী এই নারী যখন মুক্তি পাবেন, তখন তাঁর বয়স ১০০ বছর ছুঁয়ে যাবে।
এই সাজার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী নেতৃত্বের ‘নাটকীয় পতন সম্পূর্ণ’ হলো। পার্কের বাবা পার্ক চুং-হি ছিলেন স্বৈরশাসক। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পার্ক বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা-মা দুজনই হত্যার শিকার হন। ১৯৭৪ সালে তাঁর মা উক ইয়াং-সু নিহত হওয়ার পর বাবার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ফার্স্ট লেডির মর্যাদা পান। তাঁর বাবা ১৯৭৯ সালে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে নিহত হন। ব্যক্তিজীবনে পার্ক ছিলেন অবিবাহিত। নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। গত বছরের মার্চে তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার তৃতীয় সাবেক প্রেসিডেন্ট, যিনি আদালতের রায়ে অভিযুক্ত হলেন। তাঁর আগে নব্বইয়ের দশকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন চুন দু-হন ও রোহ তাই-উ। দুর্নীতিতে পরিবারের জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়লে ২০০৯ সালে আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট রোহ মু-হিউন আত্মহত্যা করেন।