দুটি বিষয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতাবিষয়ক জোট সার্কের গঠনে কাজ করেছিল। একটি হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান গঠন। অন্যটি শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে এ অঞ্চলের ছোট দেশগুলোর জোটবদ্ধ হওয়া।
দুই জিয়া—বাংলাদেশের জিয়াউর রহমান ও পাকিস্তানের জিয়াউল হক ‘মার্কিন প্রণোদনায়’ এ বিষয়ে উৎসাহিত হয়ে সার্ক গঠনে এগিয়ে যান। এইচ এম এরশাদ ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রথম সার্ক সম্মেলনের আয়োজন করেন। স্নায়ুযুদ্ধের আমলে ভারতকে দুর্বল করার চিন্তা থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ওই উদ্যোগ নিয়েছিল।
ভূ-রাজনীতিতে পরিবর্তন আসায় সার্কে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। সার্ক এখন একটি বড় রাষ্ট্র ও তাকে ঘিরে থাকা ছোট্ট রাষ্ট্রগুলো এক জোটে পরিণত হয়েছে। সার্কের বড় দেশ ভারতের অর্থনীতি জোটের অন্য সব দেশের মোট অর্থনীতির সঙ্গে তুলনীয়। আঞ্চলিক ঐক্যকে দৃঢ় করবে, এমন কোনো অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এখানে নেই। যে প্রতিযোগিতা পূর্ব এশিয়া কিংবা ইউরোপে রয়েছে।
সার্কভুক্ত দেশগুলোর সীমান্তে অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যের হিসাব বাদ দিলে দেখা যায়, বৈশ্বিক বাণিজ্যের মাত্র তিন শতাংশ হয় এই দেশগুলোতে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৮তম সার্ক সম্মেলনে সদস্যরাষ্ট্রগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য বা পরিবহনের ক্ষেত্রে বহুপক্ষীয় চুক্তি করতে একমত হতে পারেনি। একমাত্র মুখরক্ষার চুক্তিটি হয় বিদ্যুৎ বিনিময়ের জন্য গ্রিড প্রতিষ্ঠা নিয়ে।
ভারতের চেয়ে আবার চীনের অর্থনীতি বড়। প্রতিবেশী ছোট দেশগুলোকে ‘দুই হাতে’ দিচ্ছে বেইজিং। আর ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান তো অবশ্যই চীনের ‘সব সময়ের’ বন্ধু। নেপাল দীর্ঘদিন ধরে ভারতের প্রভাববলয়ের মধ্যে থাকলেও গত এক দশকে চীনের কাছ থেকে সড়ক ও অবকাঠামোগত অনেক সহায়তা পেয়েছে, এখনো পাচ্ছে। এমনকি সার্ক নেতারা এবার কাঠমান্ডুতে যে ভবনে বসে সম্মেলন করেছেন, তাও চীনের সহায়তায় তৈরি।
সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও কম-বেশি এই ধরনের পরিস্থিতি বিদ্যমান। চীন এই অঞ্চলে তিন হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। আগামী পাঁচ বছরে বাণিজ্য ১৫ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করারও কথা বলেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক তানভি মাদান বলেন, এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ছোট দেশগুলোকে ভারতমুখী করতে নয়াদিল্লীকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। যাতে ছোট দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নয়াদিল্লী অবদান রাখতে পারে।