
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত চীনা ব্যবসায়ী গুয়ো ওয়েনগুই হাজারো মানুষের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। গতকাল সোমবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত তাঁকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটি জুরি সর্বসম্মতিক্রমে ওয়েনগুইকে প্রতারণা, বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন, ওয়্যার ফ্রড (ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা) এবং অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
হো ওয়ান কৌক ও মাইলস গুয়ো নামেও পরিচিতি পেয়েছেন গুয়ো ওয়েনগুই। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৮ সাল থেকে ব্যক্তিগত অনলাইন জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে হাজারো মানুষকে নিজের বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেছিলেন। এসব প্রকল্পে উচ্চ মুনাফা বা বিলাসবহুল সেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, সংগৃহীত অর্থের বড় অংশই তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপনের খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া এ ব্যবসায়ীর বয়স কত, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, তাঁর বয়স পঞ্চাশের কোঠায়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এফবিআই তাঁকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে অবস্থিত সেন্ট্রাল পার্ক–সংলগ্ন বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করে। একই প্রতারণামূলক পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছর তাঁর সাবেক সহযোগী ইভেত্তে ওয়াং–কে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট খাতে সম্পদ গড়ে তোলা গুয়ো ওয়েনগুই ২০১৫ সালে চীন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। চীনে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের একটি ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল। তবে ওয়েনগুই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
নিউইয়র্কে বিলাসবহুল নির্বাসিত জীবনযাপন করা ওয়েনগুই নিজেকে চীনা কমিউনিস্ট শাসনের একজন কট্টর সমালোচক এবং গণতন্ত্রের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করতেন। একই সময়ে তিনি মার্কিন ডানপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন।
দুজন মিলে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিরোধিতায় একটি রাজনৈতিক ও লবিং সংগঠন গঠন করেন। এর নাম ছিল নিউ ফেডারেল স্টেট অব চায়না। সংগঠনটি চীনের কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো এবং বিকল্প রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি করত।
২০২০ সালের আগস্টে ওই চীনা ব্যবসায়ীর বিলাসবহুল প্রমোদতরি থেকে স্টিভ ব্যাননকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ প্রকল্পের জন্য সংগৃহীত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে মামলাটি করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচার চলাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
অনলাইনে ‘টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের শুক্রাণু’ নিলামে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করার পরই গুয়ো ওয়েনগুই গ্রেপ্তার হন। ষড়যন্ত্রমূলক ও বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন এই উদ্যোগের পেছনে যে দাবিটি করা হচ্ছিল সেটি হলো—টিকা নাকি ব্যাপক হারে বন্ধ্যত্ব তৈরি করে। অথচ বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় এ ধরনের দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।