থাইল্যান্ডের ব্যাংককের চায়না টাউনে পর্যটকদের দেখা যাচ্ছে
থাইল্যান্ডের ব্যাংককের চায়না টাউনে পর্যটকদের দেখা যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯৩ দেশের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশে বড় কাটছাঁট থাইল্যান্ডের

থাইল্যান্ডে ৯০টির বেশি দেশের পর্যটকদের জন্য চালু থাকা ভিসামুক্ত প্রবেশব্যবস্থায় বড় ধরনের কাটছাঁটের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। গতকাল মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর ৯৩ দেশের জন্য চালু করা ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা থেকে সরে আসছে থাইল্যান্ড। কোভিড-পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে ওই সুবিধা চালু করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ এবং ইউরোপের ২৯ দেশের শেনজেন অঞ্চল (অবাধ চলাচলের অঞ্চল) এই ভিসামুক্ত সুবিধার আওতায় ছিল।

নতুন কাঠামোর আওতায় ভিসামুক্ত অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হবে। আর কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য এই অনুমতি কমিয়ে মাত্র ১৫ দিন করা হবে।

ব্যাংককে সাংবাদিকদের থাইল্যান্ডের সরকারের মুখপাত্র রাচাদা দানাদিরেক বলেন, কিছু মানুষ বর্তমান ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে।

রাচাদা দানাদিরেক আরও বলেন, যদিও থাইল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য এখনো পর্যটনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়, তবে এখন নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা দেওয়ার কারণে কিছু মানুষ সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছে। এর কারণে অবৈধ ব্যবসা, অনুমতি ছাড়া বিদেশিদের কাজ করা এবং অনলাইন প্রতারণা বেড়েছে। এখন সরকার মনে করছে, আসল পর্যটকদের জন্য ৩০ দিনই যথেষ্ট।

এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে কয়েকজন বিদেশিকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মাদক পাচার, মানব পাচার এবং অনুমতি ছাড়া হোটেল ও ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র চালানোর অভিযোগ ছিল।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেয়ো বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাগরিকদের নিশানা করে এই নিয়ম করা হচ্ছে না; বরং যারা আইন এড়িয়ে ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার করছে, তাদের ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ৩০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধার ক্ষেত্রে স্থলপথে বছরে সর্বোচ্চ দুবার প্রবেশ করা যাবে। ২০২৪ সালে নিয়ম শিথিল করার আগপর্যন্ত একই ধরনের নিয়ম চালু ছিল।

নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে, তা থাইল্যান্ডের সরকার এখনো জানায়নি। তবে এ সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান ১০ শতাংশের বেশি।

সরকারি তথ্য বলছে, থাইল্যান্ডে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যাওয়া।

থাইল্যান্ডের সরকার চলতি বছর দেশটিতে মোট ৩ কোটি ৩৫ লাখ বিদেশি পর্যটককে আনার লক্ষ্য ঠিক রেখেছে।