ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরা সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে বরণ করে নিতে আজ শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জনসমাগম হয়
ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরা সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে বরণ করে নিতে আজ শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জনসমাগম হয়

নেপালে সাবেক রাজার সমর্থনে সমাবেশ: ‘রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে’

নেপালের জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজধানী কাঠমান্ডুতে সাবেক রাজার সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশ করেছেন। ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরা শেষ রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে বরণ করে নিতে আজ শুক্রবার এই জনসমাগম হয়। নেপালে তরুণ প্রজন্মের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর আগামী ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মাওবাদী বিদ্রোহীদের আধিপত্য থাকা একটি বিশেষ পরিষদ ২০০৮ সালে নেপালের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে। একই সঙ্গে হিন্দুপ্রধান দেশটিকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে পরিণত করা হয়। তার পর থেকে ৭৮ বছর বয়সী রাজা জ্ঞানেন্দ্র কাঠমান্ডুতে তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বসবাস করছেন।

রাজতন্ত্র বিলোপের পর গত ১৮ বছরে নেপালে ১৪ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। রাজনৈতিক এই অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের শঙ্কিত করেছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও বাধাগ্রস্ত করেছে। এরই মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে তরুণদের আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সে সময় নিহত হন ৭৭ জন।

শুক্রবার রাজতন্ত্রপন্থী সমাবেশকারীরা ‘রাজা আসুন, দেশ বাঁচান’ বলে স্লোগান দেন। জ্ঞানেন্দ্রর একজন সমর্থক ৫৫ বছর বয়সী সনাতন প্রসাদ রেগমি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ, রাজা সব নেপালি জনগণের একজন যত্নশীল অভিভাবক হতে পারেন, যা অনেক দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতা হতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

৫ মার্চ পার্লামেন্টের ২৭৫ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৬৫টি দলের মধ্যে রাজতন্ত্রপন্থীদের একটি দলও রয়েছে। তারা সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে। দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নেপালের ৩ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার। বিক্ষোভের পর ভোটার তালিকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই তরুণ।