২০২৩ সালের মে মাসে এক সামরিক মহড়ায় সারিবদ্ধভাবে উড়ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ড্রোন
২০২৩ সালের মে মাসে এক সামরিক মহড়ায় সারিবদ্ধভাবে উড়ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ড্রোন

৫ লাখ সেনাকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ বানাবে দক্ষিণ কোরিয়া

যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ট্যাংক, কামান বা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ড্রোন। সেই বাস্তবতায় দেশের পাঁচ লাখ সেনাকে ড্রোন চালনায় দক্ষ করে তুলতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

আজ শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেছেন, সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যেন তাঁরা নিজের কাছে থাকা অস্ত্রের মতোই ড্রোন ব্যবহার করতে পারেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর পাঁচ লাখ সদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন এখন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘স্বল্প খরচের বিপুলসংখ্যক ড্রোন যুদ্ধের প্রকৃতিই বদলে দিচ্ছে।’

আন গিউ-ব্যাক সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের অস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য হুমকি বাড়ছে।

নতুন পরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করবে দক্ষিণ কোরিয়া। ২০২৯ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য ‘যুদ্ধ ড্রোন’ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

সিউল জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী ড্রোন ‘কে-লুকাস’ দ্রুত উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোন থেকে, যা আবার ইরানের শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোনের নকশা অনুসরণে তৈরি। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ব্যাপকভাবে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে।

ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থাও জোরদার করতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া। এ জন্য লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার এ ঘোষণা এল। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। এর মধ্যে একটি সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওপরে সংরক্ষিত এলাকাতেও প্রবেশ করে।

তখন দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে এবং প্রায় ১০০টি গুলি ছোড়ে। কিন্তু একটি ড্রোনও ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে পিয়ংইয়ং এমন তথ্য ও কৌশল পাচ্ছে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় অর্জন করতে তাদের বহু বছর লাগত।

উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে হাজার হাজার সেনা ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য পাঠিয়েছে। ফলে দেশটির সেনাবাহিনী বৃহৎ পরিসরের ড্রোন যুদ্ধ সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।

এদিকে আজই উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং-উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষা তদারক করেছেন।