হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষায় উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের শ্যালিকা লক্ষ্মী নাইনি। সেনা হাসপাতাল, কাঠমান্ডু, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর
হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষায় উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের শ্যালিকা লক্ষ্মী নাইনি। সেনা হাসপাতাল, কাঠমান্ডু, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর

নেপালে দুজনকে জীবিত উদ্ধার

‘এটা অলৌকিক ঘটনা, আমি খুব খুশি’

হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট ঢলের ৯ দিন পর ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চীন-নেপাল সীমান্তে গত ২৬ আগস্টের হিমবাহ ও পাহাড়ধসের পর এ উদ্ধারকে ‘অলৌকিক’ বলে অভিহিত করছেন উদ্ধারকারী ও স্বজনেরা।

দুর্যোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩০১ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ হয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া শ্রমিক কবির মহারাজনের স্ত্রী হীরাশোভা বিবিসি নেপালিকে বলেছেন, ‘আমি ফেসবুকে ছবিগুলো দেখেছি। খুব খুশি হয়েছি। তাঁকে কাঠমান্ডুর সেনা হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। আমি হাসপাতালের দিকে যাচ্ছি।’

‘আমরা ১০ দিন ঠিকমতো খেতে বা পান করতে পারিনি। খুব ভয় পেয়েছিলাম। এখন আমরা সবাই খুশি। এমনকি আজ আমরা কাঁদছিও,’ এভাবেই বলেছেন কবিরের স্ত্রী হীরাশোভা।

কবিরকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর ছাউনি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ওই হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন কবির মহারাজনের শ্যালিকা বলে পরিচয় দেওয়া লক্ষ্মী নাইনি।

লক্ষ্মী নাইনি এএফপিকে বলেন, ‘এটা অলৌকিক ঘটনা! আমি খুব খুশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছি, তিনি বেঁচে আছেন। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত এক ব্যক্তিকে বের করে আনা হচ্ছে। রাসুয়া, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর। ছবিটি নেপাল সেনাবাহিনীর প্রকাশ করা

কবিরের আরেক স্বজন ৪৫ বছর বয়সী শ্যাম মহারাজন বলেন, ‘আমি কেমন অনুভব করছি, তা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ আমার নেই।’

কবিরের ভাই আমির মহারাজন এএফপিকে বলেন, ‘আমি খুব খুশি, আমার বুকটা যেন হালকা হয়ে গেছে।’

২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পাহাড়ে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের ধসের পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ থাকা শত শত জলবিদ্যুৎকর্মীর মধ্যে ছিলেন কবির ও সঞ্জয় শাহ। আজ দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর কবির মহারাজনকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হচ্ছে। নুয়োকোট, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর

কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানিয়েছে, উদ্ধার দুজনের হাত ও পায়ে আঘাত রয়েছে। তাঁরা টানেলের ভেতর হামাগুড়ি দিয়ে বের হওয়ার সময় সম্ভবত এসব আঘাত পেয়েছেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সঞ্জয় শাহরও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে! ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে। সবার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা অব্যাহত থাকুক। আমরা আশা হারাইনি।’

উদ্ধারের পর সঞ্জয় শাহকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। সেনাঘাঁটি, নুয়োকোট, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেছেন, উদ্ধার দুই ব্যক্তিই নেপালের নাগরিক। তাঁরা হলেন ৩০ বছর বয়সী যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ এবং ৪৫ বছর বয়সী যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহারাজন।

ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি স্থানেও উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্যোগে অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সরকার শুরুতে ধারণা করেছিল, বিভিন্ন টানেলের ভেতরে শতাধিক শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন।

ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নেপালের উদ্ধারকারীরা জলবিদ্যুৎ টানেলের ভেতরে আটকে থাকা এবং জীবিত থাকার আশঙ্কা করা শ্রমিকদের খুঁজতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।