কল্পনার সেই চকলেটের পাহাড় কিংবা নদীর কথা মনে আছে? সেই কল্পনাকেও যেন হার মানালেন মাল্টার প্রখ্যাত চকলেটশিল্পী অ্যান্ড্রু ফারুজিয়া। কোনো লোহা বা ইস্পাত নয়; বরং ২ হাজার ৫০০ কেজির বেশি খাঁটি বেলজিয়ান চকলেট দিয়ে তিনি তৈরি করেছেন ৫৫ মিটার লম্বা এক আস্ত ট্রেন।
অবিশ্বাস্য মনে হলেও চকলেটের তৈরি বিশ্বের দীর্ঘতম এ ভাস্কর্য সম্প্রতি নাম লিখিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায়।
এমন ট্রেন তৈরি অ্যান্ড্রু ফারুজিয়ার প্রথম সাফল্য নয়; বরং নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভাঙার এক অনন্য নজির। এর আগে ব্রাসেলসে ২০১২ সালে তিনি ৩৪ দশমিক শূন্য ৫ মিটার দীর্ঘ একটি চকলেটের ট্রেন বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছিলেন।
পরে ২০১৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের ‘বুর্জ খলিফা’র আদলে ১৩ দশমিক ৫২ মিটার উঁচু চকলেটের ভাস্কর্য বানিয়েও চমকে দিয়েছিলেন বিশ্বকে। এবার ৫৫ দশমিক ২৭ মিটার দীর্ঘ ট্রেন বানিয়ে ফারুজিয়া নিজের ঝুলিতে পুরলেন তৃতীয় গিনেস রেকর্ড।
এ চকলেট ট্রেন একটি অলিম্পিক সুইমিংপুলের চেয়েও দীর্ঘ। পুরো ভাস্কর্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী লোকোমোটিভ ও ২২টি সুদৃশ্য বগি। প্রতিটি বগির ওজন প্রায় ১৬০ কেজি। নান্দনিকতা ও খাদ্যসংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত ইতালির মিলান শহরে এক জমকালো প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিল্পকর্মটি বিশ্ববাসীর সামনে আনা হয়।
অ্যান্ড্রু ফারুজিয়া মাল্টার ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম স্টাডিজের একজন জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি রন্ধনশিল্প ও চকলেট তৈরির শিক্ষা দিচ্ছেন। এ বিশালাকার প্রজেক্ট শুরু হয়েছিল গত বছরের আগস্ট মাসে।
প্রথম ধাপে মাটি দিয়ে ট্রেনের একটি নিখুঁত নকশা বা প্রোটোটাইপ তৈরি করেন এই শিল্পী। দ্বিতীয় ধাপে মাটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় খাঁটি বেলজিয়ান চকলেটের বড় বড় ব্লক। শেষ ধাপে অক্টোবর থেকে চকলেটের টুকরাগুলো খোদাই করে বগি তৈরি শুরু হয় এবং একদল দক্ষ কারিগরের সহায়তায় সব অংশ জোড়া দিয়ে পূর্ণতা পায় এই ট্রেন।