
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরে তাঁর স্ত্রী পেং লিইউয়ান সবার নজর কেড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি কোনো অনুবাদক ছাড়াই ইংরেজিতে কথা বলেছেন। পরে শিশুদের একটি গানের দলের সঙ্গে গানেও কণ্ঠ মিলিয়েছেন। তাঁর পরনে ছিল আধুনিক নকশার ঐতিহ্যবাহী চীনা পোশাক।
চীনের প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটন সফরে ফার্স্ট লেডি পেং হয়ে উঠেছেন চীনের ‘সফট পাওয়ারের’ মোক্ষম অস্ত্র, যা চীনের ভিন্ন রকম সহজ এক ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সফট পাওয়ার হলো এমন এক কৌশল, যেখানে বলপ্রয়োগ না করে নিজস্ব সংস্কৃতি, আদর্শ, মূল্যবোধ দিয়ে ভিন্ন রাষ্ট্রের জনগণকে প্রভাবিত করা যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টে শিশুদের একটি গানের দল চীনের লোকগান ‘জেসমিন ফ্লাওয়ার’ পরিবেশন করে। পেং সেখানে নীরবে গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। গান শেষে শিশুরা তাঁকে বলে, ‘ধন্যবাদ, মা পেং!’
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, পেং মার্কিন কিশোরদের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি শেখা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের দুই দেশের বন্ধুত্বের দূত হতে বলেছেন।
বেইজিংভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ট্রিভিয়াম চায়নার ভূরাজনীতি বিশ্লেষক জো মাজুর বলেন, চীন–যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন কূটনীতির বাইরে দেশ দুটির সম্পর্কে কিছুটা উষ্ণতা যোগ করেছেন পেং। তাঁর উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক কিছু মুহূর্ত তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে।
তবে চীনে পেংয়ের সফরের ব্যক্তিগত দিক নিয়ে আলোচনা খুব সীমিত। দেশটির জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘রেড নোটে’ তাঁর পোশাক বা ইংরেজি বলার দক্ষতা নিয়ে খোঁজ করেও কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।
চীনের শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীদের প্রকাশ্যে সাধারণত কম দেখা যায়। এর পেছনে ইতিহাসও রয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট শাসনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে–তুংয়ের স্ত্রী চিয়াং ছিং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় ছিলেন ক্ষমতার কেন্দ্রে। ১৯৮১ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সাজা স্থগিত করা হয়েছিল।
বর্তমান ফার্স্ট লেডি পেং অবশ্য চীনে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। তিনি দেশটির সামরিক বাহিনীর সংগীতশিল্পী ছিলেন। সি চিন পিংয়ের ক্ষমতার উত্থানের সময় তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে চীনের সংবাদমাধ্যমে আরও বেশি খবর প্রকাশিত হতে থাকে।
২০০৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে পেং বলেছিলেন, বাড়িতে ফিরে সিকে তিনি কোনো নেতা হিসেবে দেখেন না। তাঁর চোখে সি শুধু তাঁর স্বামী। পেং তাঁকে সাদাসিধে, পরিশ্রমী ও মাটির কাছাকাছি মানুষ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।
পেং নিজেও সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তিনি এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজেও যুক্ত ছিলেন।
সি চিন পিংয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী পেং। তাঁদের এক মেয়ে আছে, যিনি হার্ভার্ডে পড়াশোনা করেছেন।