চীনের এক হাজার বছরের পুরোনো পাইনগাছ, যা ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’ নামে পরিচিত
চীনের এক হাজার বছরের পুরোনো পাইনগাছ, যা ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’ নামে পরিচিত

হাজার বছর বয়সী একটি পাইনগাছের সুরক্ষায় কী করছে চীনা শহর

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হু শিয়াওসোং তাঁর নিয়মিত টহলে বেরিয়েছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৫০০ ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এক হাজার বছরের পুরোনো একটি পাইনগাছকে রক্ষা করাই তাঁর দায়িত্ব। হুর ভাষায়, গাছটি তাঁর কাছে পরিবারের একজন সদস্যের মতো।

অদ্ভুত আকৃতি ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের এই পাইনগাছ চীনের বিখ্যাত ইয়েলো মাউন্টেনের (হুয়াংশান পর্বত) সবচেয়ে আইকনিক নিদর্শন। পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশে অবস্থিত এই পর্বত পর্যটন খাতের একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। ইংকেসোং বা ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’ নামে পরিচিত গাছটি আতিথেয়তা ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। অবিশ্বাস্যভাবে এটি পাহাড়ের চূড়ায় থাকা শক্ত গ্রানাইট পাথরের গা থেকে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠেছে।

অদ্ভুত আকৃতি ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের এই পাইনগাছ চীনের বিখ্যাত ইয়েলো মাউন্টেনের (হুয়াংশান পর্বত) সবচেয়ে আইকনিক নিদর্শন। পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশে অবস্থিত এই পর্বত পর্যটন খাতের একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। ইংকেসোং বা ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’ নামে পরিচিত গাছটি আতিথেয়তা ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। অবিশ্বাস্যভাবে এটি পাহাড়ের চূড়ায় থাকা শক্ত গ্রানাইট পাথরের গা থেকে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠেছে।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে অনেক ব্যক্তি গাছটি দেখভালের দায়িত্ব পালন করেছেন। হু হলেন ১৯তম প্রজন্মের ব্যক্তি, যিনি একরকম গাছটির ‘দেহরক্ষী’ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর কাজ হলো তীব্র প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অতিরিক্ত উৎসাহী পর্যটকদের হাত থেকে এ ঐতিহাসিক গাছকে রক্ষা করা।

হুয়াংশানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হু বলেন, ‘আমি ১৬ বছর ধরে এই কাজ করছি। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা পরপর টহল দিয়ে এই গাছ পরীক্ষা করি এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করি।’

গত সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মেয়ররা জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত পর্যটনের প্রভাব থেকে নিজেদের শহরকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে জড়ো হয়েছিলেন।

এর আগে ২০১৮ সালে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হু বলেছিলেন, তিনি শুধু বানর ও কাঠবিড়ালির হাত থেকেই নয়, পর্যটকদের কাছ থেকেও গাছটিকে রক্ষা করেন। তখন তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পর্যটকদের গাছটির কাছ থেকে দূরে রাখা এবং এটিকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া। এর পর থেকে চীনের ‘সবচেয়ে মনোরম পর্বত’ হিসেবে পরিচিত ইয়েলো মাউন্টেনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত বছর প্রথমবারের মতো এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে।

চিত্রশিল্পী ফান ইয়াং-এর আঁকা চিত্রকর্মে চীনের প্রাচীন ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’গাছ

তবে হুর মতে, আজকাল পর্যটকেরা আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ম মেনে চলেন। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিও গাছটিকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

হু বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে পর্যটকদের সামগ্রিক আচরণ উন্নত হয়েছে। তা ছাড়া আট বছর আগের তুলনায় আমরা এখন আরও কিছু নতুন উচ্চপ্রযুক্তির নজরদারি ব্যবস্থাও যুক্ত করেছি।’

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ২০২০ সালে একটি অ্যালার্ম সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এর সঙ্গে একটি অ্যাপ যুক্ত আছে। কোনো পর্যটক গাছটির খুব কাছে চলে গেলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠায়।

হু বলেন, ‘আমি সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্র দ্রুত টহল দিতে পারি। এতে অনেক সময় বাঁচে।’

হু আরও বলেন, এ মূল্যবান পাইনগাছ যে এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে, সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। কারণ, বয়সের কারণে গাছটিকে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। তা ছাড়া পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে অনেক ব্যক্তি গাছটি দেখভালের দায়িত্ব পালন করেছেন। হু হলেন ১৯তম প্রজন্মের ব্যক্তি, যিনি একরকম গাছটির ‘দেহরক্ষী’ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর কাজ হলো তীব্র প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অতিরিক্ত উৎসাহী পর্যটকদের হাত থেকে এ ঐতিহাসিক গাছটিকে রক্ষা করা।

হুর ভাষায়, বরফ-শীতল বৃষ্টি এ পাইনগাছের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ের। কারণ, সঠিকভাবে সামলানো না গেলে এ বৃষ্টি ডালপালার ক্ষতি করতে পারে।

চীনের ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টার বলেছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে আগের তুলনায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বেশি বিস্তৃত এলাকায় তীব্র বরফ-শীতল বৃষ্টি হয়েছে। একে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হু আরও বলেন, ‘তীব্র আবহাওয়ার সময় আমাকে প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর গাছটি পরীক্ষা করতে হয়। আর যদি প্রবল বাতাস বা বন্যা হয়, তাহলে আমরা সারা রাত জেগে থাকি। গাছটিকে এ কঠিন আবহাওয়া সহ্য করতে দেখে সত্যিই খুব কষ্ট লাগে।’

গত সপ্তাহে হুয়াংশানে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক সংলাপে ইতালি, জার্মানি, থাইল্যান্ডসহ ১০টি দেশের মেয়ররা অংশ নেন। সেখানে তাঁরা আরও টেকসই শহর গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

নেপালের পোখারা শহরের মেয়র ধন রাজ আচার্য বলেন, তাঁর শহরের সমস্যাগুলোর সঙ্গে হুয়াংশানের অনেকটাই মিল আছে।

ধন রাজ বলেন, ‘একটি নাজুক পাহাড়ি এলাকার মধ্যে পোখারার অবস্থান। তাই আমরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৃষ্টিপাত, বন্যা, ভূমিধস এবং দ্রুত নগরায়ণের মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।’

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামলানো নিয়ে উদ্বেগে থাকা মেয়রদের কেউ কেউ হুয়াংশানের পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে চান। এর মধ্যে ছিলেন ইতালির গ্রাদারার মেয়র ফিলিপ্পো গাস্পেরি। তাঁর শহরের জনসংখ্যা মাত্র ৫ হাজার হলেও বছরে সেখানে ৫ লাখের বেশি পর্যটক আসে।

গাস্পেরি বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা।’

চীনের অন্যতম বিখ্যাত প্রাকৃতিক উদ্যান ইয়েলো মাউন্টেনে প্রতিবছর ভিড় করা লাখো পর্যটকের চাপ সামলাতে বিস্তৃত পরিসরে পর্যটন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্বের কিছু শহরের কর্তৃপক্ষ আবার চীনের সড়কে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবস্থা অনুসরণ করতে চায়। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই আগ্রহ আরও বাড়ছে।

সান মারিনো-চীন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্বকারী আনা জিওর্জেটি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে যা সত্যিই অনুসরণ করতে চাই, তা হলো চীনের বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তির ব্যবহার।’

জিওর্জেটি বলেন, ইতালির অভ্যন্তরে অবস্থিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সান মারিনো সম্প্রতি চীনের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক যানবাহন নির্মাতা কোম্পানি বিওয়াইডির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। তিনি এটিকে সান মারিনোর জন্য একটি বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।