২০১৯ সালের প্যারিস এয়ার শোতে ‘কান’ যুদ্ধবিমানের একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল প্রদর্শন করা হয়। ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধবিমানটি প্রথমবারের মতো আকাশে ওড়ে
২০১৯ সালের প্যারিস এয়ার শোতে ‘কান’ যুদ্ধবিমানের একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল প্রদর্শন করা হয়। ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধবিমানটি প্রথমবারের মতো আকাশে ওড়ে

তুরস্কের ‘কান’ যুদ্ধবিমানের জন্য মার্কিন ইঞ্জিন বিক্রিতে কংগ্রেসের বাধা কাটল

তুরস্কের নিজেদের তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমান ‘কান’–এর জন্য এফ–১১০ ইঞ্জিন বিক্রির মার্কিন প্রশাসনের প্রস্তাবটি কংগ্রেসের একটি বড় বাধা পার হয়েছে। ১৫ দিনের পর্যালোচনা সময়কালে কংগ্রেস এই প্রস্তাবের কোনো বিরোধিতা করেনি।

বিদেশে সামরিক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির এই প্রস্তাব গত ২৪ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। এরপর ন্যাটো মিত্রদের জন্য প্রযোজ্য ১৫ দিনের পর্যালোচনা সময়কালে কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য এই বিক্রি স্থগিত করার জন্য একটি যৌথ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

কংগ্রেসের ৯ জন সদস্য এই যৌথ প্রস্তাবে সই করেন। এটি প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট উভয় কক্ষেই জমা দেওয়া হয়েছিল। এতে তুরস্কের কাছে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির পরিকল্পনা আটকে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তবে পর্যালোচনার সময় শেষ হওয়ার আগে প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেট কোনো কক্ষেই ভোটের জন্য তোলা হয়নি। ফলে ৯ জুলাই ১৫ দিনের পর্যালোচনার সময়সীমা শেষ হয়। এরপর কংগ্রেসের কোনোরকম বাধা ছাড়াই এফ–১১০ ইঞ্জিন বিক্রির প্রক্রিয়াটি এগোচ্ছে।

পরবর্তী ধাপে মার্কিন প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং তুরস্কের কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলবে। এই আলোচনায় এফ–১১০ ইঞ্জিন কেনার বিষয়ে কারিগরি ও বাণিজ্যিক দিকগুলো নিয়ে কথা হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ আলোচনাগুলোতে ইঞ্জিন সরবরাহের সময়সূচি, যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ইঞ্জিন যুক্ত করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সনদ দেওয়ার কার্যক্রমের ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে।

কান যুদ্ধবিমানে এফ১১০-জিই-১২৯ই/এফ মডেলের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো এ–সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় ইঞ্জিন যুক্ত করা, সংযোজন, বাইরের কাঠামোগত পরিবর্তন, সনদ দেওয়া ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সেবা এবং কারিগরি তথ্য হস্তান্তরের বিষয়গুলোও চুক্তিতে থাকছে।

৭ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হয়। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তুরস্কের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। এরই ধারাবাহিকতায় ইঞ্জিন বিক্রির এই অগ্রগতি দেখা গেল। এটি ন্যাটো জোটের এই দুই মিত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।

গত সপ্তাহে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন তুরস্কের কাছে ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এফ–১১০ জেট ইঞ্জিন বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেনারেল ইলেকট্রিকের তৈরি এই ইঞ্জিনগুলো তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমান ‘কান’-এ ব্যবহার করা হবে। এই যুদ্ধবিমান পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তিসম্পন্ন হবে বলে দাবি করে আসছে দেশটি।

নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক দলের প্রতিনিধি দিনা টাইটাস ইঞ্জিন বিক্রি বন্ধের এই যৌথ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। কংগ্রেসের আরও আটজন ডেমোক্র্যাট সদস্য তাঁকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

প্রস্তাবে সই করা আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এমন কয়েকজন ছিলেন, যাঁরা আগে থেকেই তুরস্কের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্র্যাড শারম্যান, দিনা টাইটাস, ক্রিস প্যাপাস ও জিম ম্যাকগভার্ন। এঁরা সবাই এর আগে তুরস্কের কাছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রির মতো প্রতিরক্ষা রপ্তানিতেও আপত্তি জানিয়েছিলেন।

প্রস্তাবটি সমর্থনকারী অন্য আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ছিলেন জিম কস্টা, জশ গটহেইমার, মাইক কুইগলি ও জর্জ ল্যাটিমার। তাঁরা এমন সব নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি, যেখানে আর্মেনীয়, গ্রিক ও ইসরায়েলি প্রবাসীদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এই আইনপ্রণেতারা প্রায়ই তুরস্কের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে বিরোধিতা করে আসছেন।