অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) নেতারা (বাঁ থেকে) আলিস ভাইডেল, টিনো ক্রুপালা ও উলরিশ জিগমুন্ড। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) নেতারা (বাঁ থেকে) আলিস ভাইডেল, টিনো ক্রুপালা ও উলরিশ জিগমুন্ড। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির জয়ের পর সরকার গঠন নিয়ে টানাপোড়েন

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় জয় পেয়েছে। চার বছর আগের তুলনায় এ বছর দলটির ভোট দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

অন্যদিকে ওই রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের ভোট অর্ধেকের বেশি কমেছে। তবে এএফডি রাজ্যটিতে এখনো এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রশাসন, অভিবাসননীতি, শিক্ষা, গণমাধ্যম, অর্থনীতি ও নাগরিক সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই রাজ্যের পার্লামেন্টে আসনসংখ্যা ৮৩। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হতে প্রয়োজন পার্লামেন্টের সদস্যদের অন্তত ৪২টি ভোট। এএফডি পেয়েছে ৩৯টি আসন। অর্থাৎ, দলটির প্রয়োজন আরও ৩টি ভোট।

ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ), সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) ও পরিবেশবাদী গ্রিনস দল মিলে পেয়েছে ৩১টি আসন। বামপন্থী দ্য লিঙ্কে পেয়েছে ৮টি এবং বুন্ডনিস জারা ভাগেনক্নেশট (বিএসভি) পেয়েছে ৫টি আসন। ফলে এই দুই দলকে সঙ্গে নিলে ৫ দলের মোট আসন দাঁড়ায় ৪৪, যা ৮৩ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪২ আসনের চেয়ে বেশি। তবে রাজনৈতিকভাবে এমন পাঁচ দলের জোট গঠন অত্যন্ত কঠিন এবং অস্থিতিশীল হতে পারে। এ ছাড়া ইতিমধ্যে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দ্য লিঙ্কের সঙ্গে জোট বা জোটসদৃশ সহযোগিতা নাকচ করেছে।

জার্মানির রাজ্য সরকার গঠনের আইন অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে গোপন ভোটে নির্বাচিত করা হয়। তবে প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সাত দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন করতে হয়। দ্বিতীয় দফাতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা না এলে ১৪ দিনের মধ্যে রাজ্য পার্লামেন্টকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হয়।

এএফডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তৃতীয় দফার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে জয়ের সুযোগ রয়েছে। এই দফায় ৪২টি ভোট পাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যে প্রার্থী উপস্থিত ও ভোট দেওয়া সদস্যদের মধ্যে বেশি ভোট পাবেন, তিনিই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। তাই বিএসভি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকলে এবং ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের কয়েকজন সদস্য এএফডির প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিলে দলটির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড ৩৯টি ভোট পেয়েও মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন।

এএফডি ইতিমধ্যে প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন, অভিবাসন ও বহিষ্কারনীতি কঠোর করা, সরকারি সম্প্রচারব্যবস্থার চুক্তি বাতিল, শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয়তাবাদী নীতি জোরদার এবং ডানপন্থাবিরোধী সংগঠনগুলোর সরকারি অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে।