যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার
যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার

যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলার পদত্যাগ, ১৪ মাসে সরে দাঁড়ালেন ৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার স্থানীয় সময় শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। কর-সংক্রান্ত অনিয়মের দায় স্বীকার করে তিনি পদত্যাগ করেন। ক্ষমতায় আসার পর গত ১৪ মাসে এ নিয়ে কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভা থেকে ৯ জন পদত্যাগ করলেন।

অ্যাঞ্জেলা উপপ্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ইংল্যান্ডের হোভ এলাকায় নিজের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সময় তিনি প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ডের স্ট্যাম্প ডিউটি (কর) কম পরিশোধ করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক মানদণ্ডবিষয়ক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের তদন্তে অ্যাঞ্জেলার অনিয়ম ধরা পড়ে। এরপর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্রে অ্যাঞ্জেলা লিখেছেন, ‘বিশেষজ্ঞ কর পরামর্শ না নেওয়াটা আমার বড় ভুল ছিল। এর সম্পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি।’

অ্যাঞ্জেলার পদত্যাগে দুঃখ প্রকাশ করে তাঁর অবদানকে ‘অমূল্য’ বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে বলেছে, একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ লেবার সরকারের ‘নৈতিক দুর্বলতা ও প্রশাসনিক অস্থিরতার প্রমাণ’।

কিয়ার স্টারমার ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর চার মাসের মাথায় ২৮ নভেম্বর তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে পরিবহনমন্ত্রী লুইস হেই পদত্যাগ করেন। ২০১৩ সালে মোবাইল চুরির মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার ও অনৈতিক আচরণের জন্য সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এরপর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘সিটি মিনিস্টার’র পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত নিয়ে আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে নিজে জড়িত নয় দাবি করে টিউলিপ বলেছিলেন, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যান্ড্রু গোয়েইনকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভণ্ডামিমূলক, অশ্লীল ও বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য বরখাস্ত করা হয়। তাঁর লেবার পার্টির সদস্যপদও স্থগিত করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, নারীবাদ ও সমতা-বিষয়ক মন্ত্রী এ্যানেলিস ডডস্ সরকারের বিদেশ সাহায্য বাজেট কাটছাঁটের নীতিগত বিরোধ থেকে পদত্যাগ করেন।

এরপর ২২ মে জ্বালানি নিরাপত্তা-বিষয়ক মন্ত্রী ফিলিপ হান্ট স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেন। ২ জুন পার্লামেন্টের হাউজিং ও কমিউনিটি বিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি নাভেন্দু মিশরা সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা কাটার বিরোধিতা করে নীতিগত অবস্থানের কারণে পদত্যাগ করেন। ৬ জুন জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট জিরোবিষয়ক মন্ত্রী স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব ছাড়েন। ৭ আগস্ট সরকারের গৃহহীন-বিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী পদত্যাগ করেন। তিনি নিজের বাড়ির ভাড়া অসংগতিপূর্ণভাবে বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

এ ছাড়া ১৯ জুন ট্রেজারি হুইপ ভিকি ফক্সক্রফট সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কাটছাঁটের প্রতিবাদে এবং ২২ জুলাই লর্ডস প্রতিনিধি ক্লদ মোরাস পার্টির নীতিগত সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করে পদত্যাগ করেন।

১৪ মাসে ৯ মন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে লেবার সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, এত অল্প সময়ে এত বেশি মন্ত্রী পদত্যাগ করায় সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে সরকার বলছে, দায়িত্বশীলতার খাতিরেই মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন। এটা গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করছে।