ড্রোন হামলার পর মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে গ্যাসবাহী জাহাজে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও থেকে নেওয়া। ২৯ জুলাই, ২০২৬
ড্রোন হামলার পর মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে গ্যাসবাহী জাহাজে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও থেকে নেওয়া। ২৯ জুলাই, ২০২৬

মিসরের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, দুই জাহাজে আগুন

মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় দামিয়েত্তা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা আমব্রে গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেখানে কোনো ড্রোন হামলার উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি এ অগ্নিকাণ্ডের কোনো কারণও স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে বন্দর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইনচকেপ এক বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি গ্যাস ট্যাংকারে আগুন লেগেছে।

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, ড্রোনটি ‘এনারগোস উইন্টার’ নামের একটি ভাসমান সংরক্ষণ ট্যাংকারে আঘাত করে। এর ফলে সৃষ্ট আগুন পাশে থাকা ‘গ্যাসলগ সালেম’ নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি দুটি ভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রও জানিয়েছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে এ বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ড্রোন হামলাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

এ হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগে ওয়াশিংটন ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনীর ওপর একযোগে বিমান হামলা চালায়।

হামলার পেছনে কারা, এখনো অস্পষ্ট

ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, ‘এনারগোস উইন্টার’ জাহাজের ডান দিকে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে আগুন ধরে যায়। পরে তা নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে।’

এ হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগে ওয়াশিংটন ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনীর ওপর একযোগে বিমান হামলা চালায়।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে চলমান সংঘাত এখন সবচেয়ে বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিল।

স্যাটেলাইট ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণ করে সত্যতা যাচাই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওর সূত্র ধরে রয়টার্স ঘটনার স্থানটি নিশ্চিত করতে পেরেছে। বন্দরের অবকাঠামো, গ্যাস মজুত রাখার ট্যাংক ও জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হামলার সত্যতা পাওয়া গেছে।

রয়টার্সের পাওয়া তথ্য আগের রেকর্ড এবং স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবির সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। জাহাজের মাস্তুল, পেছনের অংশ, মূল কাঠামো এবং সামনের ডেক মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটি ছিল ‘এনারগোস উইন্টার’ ও ‘গ্যাসলগ সালেম’।

ড্রোন হামলার পর মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে একটি গ্যাসবাহী জাহাজ থেকে ধোঁয়া উঠছে। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও থেকে নেওয়া। ২৯ জুলাই, ২০২৬

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অগ্নিকাণ্ডের বিবৃতির মাধ্যমে ঘটনার তারিখও নিশ্চিত করা গেছে। তা ছাড়া, ২৯ জুলাইয়ের আগে এ ভিডিওর পুরোনো কোনো সংস্করণ ইন্টারনেটে পাওয়া যায়নি।

‘এনারগোস উইন্টার’ মূলত একটি ভাসমান গ্যাস মজুত ও পুনর্গঠন ইউনিট। এটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৫০ ঘনমিটার। জাহাজটির মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এনারগোস ইনফ্রাস্ট্রাকচার’। এর কারিগরি, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আরেকটি মার্কিন কোম্পানি ‘উইলহেলমসেন শিপ ম্যানেজমেন্ট’।

মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরের একটি দৃশ্য। ৩১ আগস্ট, ২০২৪

মিসরের মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে একটি গ্যাস রূপান্তরকারী জাহাজ ও একটি গ্যাস মজুতকারী জাহাজে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তা দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি ও উদ্ধার তৎপরতা সরাসরি তদারকি করতে পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী করিম বাদাউই নিজে ঘটনাস্থলে যান। এ অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জরুরি ও কারিগরি দলগুলো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।