জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনের পর ম্যাগডেবার্গে এএফডির নির্বাচনী অনুষ্ঠানে দলটির নেতা অ্যালিস ভাইডেল। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনের পর ম্যাগডেবার্গে এএফডির নির্বাচনী অনুষ্ঠানে দলটির নেতা অ্যালিস ভাইডেল। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থীদের জয়, ইউরোপ কি পালাবদলের পথে

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের একটি রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই জয় আগামী বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে সাফল্য পেতে মরিয়া কট্টর ডানপন্থী দলগুলোকে নতুন করে শক্তি জোগাবে।

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে গত রোববারের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পায় এএফডি। সেই ফলের প্রভাব লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্যারিসের এলিসি প্রাসাদ পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। ইউরোপের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য কোনো আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলকে এতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখার নজির খুব কম।

কারণ, এটি ইউরোপের অন্য কোনো দেশ নয়—জার্মানি। নাৎসিবাদের বিপর্যয়কর ইতিহাসের পর দেশটি বরাবরই কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করেছে। এবারের ফল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এক দশক ধরে ইউরোপে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তারা ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও কাছে পৌঁছে গেছে। এই নির্বাচন সেই ধারার সর্বশেষ ধাপ।

আগামী বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এএফডির বড় সাফল্য সামনে কট্টর ডানপন্থীদের আরও জয়ের আগাম বার্তা হতে পারে। একই সঙ্গে কীভাবে এমন জয় পাওয়া যায়, তার একটি দৃষ্টান্তও তৈরি করেছে দলটি।

উন্নত ইউরোপ একধরনের জটিল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারগুলো মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের সমাধান করতে পারছে না। ভোটারদের চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না।
মুজতবা রহমান, ইউরোপবিষয়ক বিশ্লেষক, ইউরেশিয়া গ্রুপ

এএফডির জনতুষ্টিবাদী ও অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের জাতীয়তাবাদী নেতাদের বক্তব্যের মিল রয়েছে। এসব দেশের ভোটারদের মধ্যেও জার্মান ভোটারদের মতোই অনেক ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।

আগামী বসন্তে ফ্রান্সের ভোটাররা নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। আগামী আগস্টের মধ্যে স্পেনে এবং আগামী বছরের শেষ নাগাদ ইতালিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। তিন দেশেই কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীদের সমর্থন বাড়ছে। ভোটারদের অনেকে অর্থনীতির দীর্ঘদিনের সমস্যার জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করছেন। এতে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অবস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের ইউরোপবিষয়ক বিশ্লেষক মুজতবা রহমান বলেন, ‘উন্নত ইউরোপ একধরনের জটিল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারগুলো মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের সমাধান করতে পারছে না। ভোটারদের চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না।’

দ্রব্যমূল্য ও বেকারত্বের প্রভাব

জার্মানিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ বেকারত্ব এএফডির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়েছে এএফডি।
তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এএফডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সামান্য পিছিয়ে থাকতে পারে। তাই যে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে দলটি শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে ব্যর্থ হতে পারে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো আগেই জানিয়েছে, তারা এএফডির সঙ্গে জোটে সরকার গঠন করবে না। দলটির কয়েকজন নেতা নাৎসি স্লোগান ব্যবহার করেছেন এবং হলোকাস্টের গুরুত্ব খাটো করে দেখিয়েছেন। জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা এএফডিকে ‘সন্দেহভাজন’ উগ্রপন্থী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর একটি কারণ হলো, দলটি অভিবাসী পরিবারের জার্মান নাগরিকদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে তুলে ধরে।
তারপরও এএফডির এই ফল চ্যান্সেলর মের্ৎসকে বিপদে ফেলতে পারে। নিজের দলের সদস্যরা এই পরাজয়ের জন্য তাঁকে দায়ী করলে তাঁর নেতৃত্ব আরও দুর্বল হবে। এমনিতেই ইউরোপে জার্মানির নেতৃত্ব আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে।

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে এএফডির নির্বাচনী আয়োজনস্থলে সারিবদ্ধ জার্মানির পতাকা। ম্যাগডেবার্গ, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মের্ৎসের অবস্থান এতটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রকাশ্যেই তাঁর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। জার্মানির রাজনীতিতে একসময় এমন পরিস্থিতি প্রায় অকল্পনীয় ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুজতবা রহমান বলেন, ‘এটি ইউরোপের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। একজন চ্যান্সেলর যখন নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে বাধ্য হন, তখন জার্মানি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ইউরোপের সমস্যাগুলো মোকাবিলার সামর্থ্যও শেষ পর্যন্ত কমে যায়।’

আগামী বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এএফডির বড় সাফল্য সামনে কট্টর ডানপন্থীদের আরও জয়ের আগাম বার্তা হতে পারে।

কট্টর ডানপন্থীদের নিয়ে দুই ধরনের ধারণা

নির্বাচনের ফল ইউরোপীয়দের মধ্যকার একটি বড় বিভাজনও সামনে এনেছে। এক পক্ষ কট্টর ডানপন্থীদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ মনে করেন, কট্টর ডানপন্থীরাই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে।

প্রথম পক্ষের আশঙ্কা, কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা দুর্বল করে দেবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করবে। অন্য পক্ষ মনে করে, সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অভিজাত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কট্টর ডানপন্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এই অভিজাতরা জাতীয় পরিচয় দুর্বল করেছে এবং মানুষের জীবিকা বিপদের মুখে ফেলেছে।

অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) নেতারা (বাঁ থেকে) আলিস ভাইডেল, টিনো ক্রুপালা ও উলরিশ জিগমুন্ড। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সে লো পেনের সম্ভাবনা

ফ্রান্স নিয়ে মধ্যপন্থীদেরও উদ্বেগ কম নয়। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ আগামী বসন্তে দায়িত্ব ছাড়বেন। দেশটির প্রধান কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‌্যালির প্রার্থী মারিন লো পেন প্রথম দফার জনমত জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি দ্বিতীয় দফার জরিপেও তিনি প্রথম হয়েছেন।

লো পেন ১৪ বছর ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন। এবার তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ক্ষমতার বেশি কাছে পৌঁছে গেছেন।

মুজতবা রহমানের মতে, প্যারিসে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠিত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমনভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে, যা অন্য কোনো দেশের নির্বাচনের ফলে হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ, ফ্রান্স একটি বড় দেশ। তার পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং ইউরোপীয় প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর একটি এটি।

ফ্রান্সে কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় এলে তথাকথিত ‘কর্দোঁ সানিতের’ নীতিরও অবসান ঘটতে পারে। এই নীতির কারণে ফ্রান্স ও জার্মানির মূলধারার দলগুলো এত দিন কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট বা সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ফরাসি ও ইউরোপীয় রাজনীতির অধ্যাপক ফিলিপ মারলিয়ের বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দুই দেশেই যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য টিকে ছিল, তা এখন ভেঙে পড়ার মুখে।’

ফ্রান্সে কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় এলে তথাকথিত ‘কর্দোঁ সানিতের’ নীতিরও অবসান ঘটতে পারে। এই নীতির কারণে ফ্রান্স ও জার্মানির মূলধারার দলগুলো এত দিন কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট বা সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে।

স্পেন ও যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি

বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্পেনের পরবর্তী জোট সরকারে কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টি জায়গা করে নিতে পারে। বিভিন্ন দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও অভিবাসনসংকটের কারণে বর্তমানে ক্ষমতাসীন সমাজতন্ত্রীদের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সুবিধা করতে পারছিল না ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। এ পরিস্থিতিতে জনসমর্থন হারানো প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে তাই গত জুলাইয়ে সরিয়ে দেয় দলটি।

তবে কট্টর ডানপন্থীদের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না, বিষয়টি এমনও নয়। রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয় নেতা নাইজেল ফারাজকে ঘিরে একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠছে। এতে দলটির সাফল্যের গতি হঠাৎ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই সুযোগে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার অপ্রত্যাশিতভাবে পরিস্থিতি সামলানোর কিছুটা সময় পেয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দুই দেশেই (ফ্রান্স ও জার্মানি) যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য টিকে ছিল, তা এখন ভেঙে পড়ার মুখে।
ফিলিপ মারলিয়ে, অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন

হাঙ্গেরিতে অরবানের পরাজয়

গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচনে পরাজিত হন। ব্যাপকভাবে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তাঁর সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, অর্থনীতির প্রতি উদাসীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিরোধে জড়িয়েছে।

অরবানের ফিদেস পার্টির পরাজয় ইউরোপের মূলধারার রাজনীতিকদের আশাবাদী করেছে। তাঁরা মনে করছেন, কট্টর ডানপন্থীরাও নির্বাচনে পরাজিত হতে পারে।
কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রাজনীতির অধ্যাপক টিমোথি বেল বলেন, এএফডির সাফল্য নিয়ে মূলধারার রাজনীতিকদের কতটা উদ্বিগ্ন হওয়া প্রয়োজন, তা দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। দলটি ক্ষমতায় গেলে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক আচরণ করে কি না এবং দক্ষতার সঙ্গে সরকার চালাতে পারে কি না—সেটিই হবে দেখার বিষয়।

মেলোনির কৌশল

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জনতুষ্টিবাদী দলের শিকড় নব্য ফ্যাসিবাদে। তবে ক্ষমতায় এসে তিনি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বিষয়ে নিজের অবস্থান অনেকটা নরম করেছেন। তাঁর সরকার সম্প্রতি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে একটানা সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের রেকর্ড গড়েছে।

আগামী গ্রীষ্মের নির্বাচনে সেই মেয়াদ আরও বাড়ানোর মতো অবস্থানে রয়েছেন মেলোনি। কিন্তু তাঁর চেয়েও ডানপন্থী নেতা রবার্তো ভান্নাচ্চির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এতে অভিবাসনের মতো বিষয়ে মেলোনি আবারও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।

গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক অভিবাসী স্পেনের একটি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এ ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কঠোর সমালোচনা করেন মেলোনি।

ফারাজকে আরও ডান দিক থেকে চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যে নাইজেল ফারাজও একই ধরনের চাপে পড়তে পারেন। তাঁর দলের অসন্তুষ্ট সদস্য রুপার্ট লো দল ছেড়ে আরও ডানপন্থী একটি নতুন দল গঠন করেছেন। দলটি ফারাজের সমর্থকদের একটি অংশকে নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছে।

অধ্যাপক টিমোথি বেলের মতে, আরও ডানপন্থী দলের প্রতিযোগিতা এবং রিফর্ম ইউকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের কারণে ফারাজের সরকার গঠনের মতো যথেষ্ট ভোট জোগাড় করা কঠিন হবে।

ইউরোপের চাপে থাকা মধ্যপন্থীরা আশা করছেন, ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের অস্থিরতা থেকে শিক্ষা নেবেন। সেই শিক্ষা হলো, মূলধারার বাইরের দল নিয়ে পরীক্ষা করতে গেলে ভুল করার ঝুঁকি থাকে।
মুজতবা রহমান, ইউরোপবিষয়ক বিশ্লেষক, ইউরেশিয়া গ্রুপ

ফ্রান্সে মধ্যপন্থীদের বিভক্তিই লো পেনের সুযোগ

ফ্রান্সে মারিন লো পেনের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত। জনমত জরিপে তাঁর সমর্থন শীর্ষস্থানীয় মধ্যপন্থী প্রার্থী এদুয়ার ফিলিপ কিংবা শীর্ষস্থানীয় কট্টর বামপন্থী প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশনের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এদুয়ার ফিলিপ বা অন্য কেউ মধ্য-ডান ও মধ্য-বামপন্থীদের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন সংগ্রহ করতে পারবেন কি না। তাঁদের মধ্য থেকে মূলধারার সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন প্রার্থী উঠে এলে দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি লো পেনকে হারানোর সুযোগ পাবেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

কিন্তু ফ্রান্সের মধ্যপন্থীরা এখনকার মতো বিভক্ত থাকলে মেলঁশনের দ্বিতীয় দফায় ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন লো পেন।
ফ্রান্সের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি। লড়াই এমনটি হলে লো পেনই হবেন জয়ের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী।

ট্রাম্পের প্রভাব কতটা

ইউরোপের অন্য কট্টর ডানপন্থী নেতাদের মতো লো পেনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তারপরও বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড লো পেনসহ ইউরোপের অন্য জনতুষ্টিবাদী প্রার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলে থাকতে পারে।

ইউরোপে ট্রাম্প এখনো ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রেও তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে।

মুজতবা রহমান বলেন, ইউরোপের চাপে থাকা মধ্যপন্থীরা আশা করছেন, ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের অস্থিরতা থেকে শিক্ষা নেবেন। সেই শিক্ষা হলো, মূলধারার বাইরের দল নিয়ে পরীক্ষা করতে গেলে ভুল করার ঝুঁকি থাকে।