
সারা মুলালি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের ‘আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবুরি’ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রথম নারীপ্রধান হিসেবে তাঁর জনসেবামূলক কার্যক্রম শুরু হলো।
সাবেক এই নার্স গতকাল বুধবার ক্যান্টারবুরি ক্যাথেড্রালে ত্রয়োদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ‘সেন্ট অগাস্টিন’ চেয়ারে আসীন হন। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্তরসূরি প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি সদস্যের ‘অ্যাঙ্গলিকান কমিউনিয়ন’-এর আধ্যাত্মিক প্রধান হিসেবে কাজ করবেন সারা মুলালি। চার্চ অব ইংল্যান্ড ১৯৯৪ সালে প্রথম নারী যাজক ও ২০১৫ সালে প্রথম নারী বিশপ নিয়োগ দিয়েছিল।
অভিষেক অনুষ্ঠানে সারা মুলালি ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আজ আমার সেবাকাজ শুরু করছি।’
মাথায় সোনালি টুপি পরে সারা মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।
গির্জার ভেতরে অতীতে ঘটে যাওয়া শিশু নির্যাতনের কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার কথা স্বীকার করেন নতুন আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবুরি। এই কেলেঙ্কারির কারণেই তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ওয়েলবি ২০২৪ সালে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে চলার অঙ্গীকার করেন।
প্রতীকী পোশাক ও ঐতিহ্য
অনুষ্ঠানের শুরুতে সারা মুলালি গির্জার দরজায় কড়া নাড়েন। তিনি যে পোশাকটি পরেছিলেন, তাতে একটি বিশেষ ক্ল্যাপ ছিল, যা তাঁর নার্স থাকাকালীন বেল্টের আদলে তৈরি। এ ছাড়া তিনি একটি ঐতিহাসিক আংটি পরেন, যা ১৯৬৬ সালে পোপ ষষ্ঠ পল আর্চবিশপ মাইকেল রামসেকে উপহার দিয়েছিলেন। এটি ক্যাথলিক ও অ্যাঙ্গলিকানদের মধ্যে সুসম্পর্কের প্রতীক।
সারা মুলালি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন যখন সমকামীদের বিয়ে এবং নারী নেতৃত্ব নিয়ে গির্জার রক্ষণশীল ও প্রগতিশীল ধারার মধ্যে বিভেদ চলছে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক রক্ষণশীল চার্চ তাঁর নিয়োগের সমালোচনা করেছে। তবে তিনি বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা সবাই একই শিকড়ের একটি পরিবার।’