রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে কাজ করছেন অগ্নিনির্বাপণ দলের সদস্যরা। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে, ৭ অক্টোবর ২০২৬
রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে কাজ করছেন অগ্নিনির্বাপণ দলের সদস্যরা। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে, ৭ অক্টোবর ২০২৬

যুদ্ধে নতুন কৌশল: ইউক্রেনের পরিবহনব্যবস্থায় হামলা বাড়াচ্ছে রাশিয়া

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ক্রামাতোরস্ক শহরে রাশিয়ার গাইডেড বোমা হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার চালানো এ হামলায় আহত হয়েছেন ১৮ জন। এটি চলতি বছর রাশিয়ার চালানো বড় হামলাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেন সরকার।

ক্রামাতোরস্ক শহর ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা দখল করে রেখেছে রুশ বাহিনী। এখন গুরুত্বপূর্ণ ক্রামাতোরস্ক শহর দখলের দিকে নজর দিয়েছে তারা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে।

ক্রামাতোরস্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস্তায় থাকা দুটি বাসে ওই বোমা হামলা চালানো হয়। বাস দুটিতে অনেক যাত্রী ছিলেন। ইউক্রেন পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, রাস্তায় বাসের পোড়া কাঠামো পড়ে আছে। সড়কে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কয়েকটি মরদেহও ছিল।

এই হামলা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেন সরকার। স্থানীয় গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন বলেন, রুশ বাহিনীর কাছে যাত্রীবাহী বাস আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু। কারণ, একটি হামলাতেই যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যা করা যায়।

বোমা হামলার পর ক্রামাতোরস্কসহ আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর স্লোভিয়ানস্কের কর্তৃপক্ষকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান গভর্নর ফিলাশকিন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো অধিকার আমাদের নেই।’

হামলার বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়া বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। এ ছাড়া রাশিয়া চাচ্ছে, এই যুদ্ধ বন্ধের আগে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চলকে মস্কোর হাতে ছেড়ে দিতে হবে কিয়েভকে। তবে এই দাবি মানবে না ইউক্রেন।

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরদিন হামলাটি চালানো হলো। আগের দিনের হামলায় ১২ জন নিহত হন। এদিন ইউক্রেনের আবাসিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল রাশিয়া।

রাশিয়ার এই হামলা নিয়ে কিয়েভভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘পেনটা’র প্রধান ভলোদিমির ফেসেঙ্কো আল–জাজিরাকে বলেন, এটা রাশিয়ার নতুন একটি কৌশল। তারা ইউক্রেনকে বিদ্যুৎবঞ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। এখন তারা পরিবহনব্যবস্থা ধসিয়ে দেওয়ার জন্য অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে।