
পূর্ব হাঙ্গেরিতে ৫৭ জন তীর্থযাত্রীবাহী একটি পোলিশ বাস মহাসড়ক থেকে ছিটকে পড়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বেঁচে ফেরা এক যাত্রী এ দুর্ঘটনাকে ‘কল্পনাতীত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, রাত আনুমানিক একটার দিকে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি খাদে পড়ে উল্টে যায়।
হাঙ্গেরির পুলিশ জানিয়েছে, পূর্ব হাঙ্গেরির মেজোকেরেস্তেস শহরের কাছে নাইরেগিহাজা শহরের দিকে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, পোল্যান্ডে নিবন্ধিত বাসটি সোজা রাস্তা থেকে ছিটকে খাদে পড়ে উল্টে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চালক সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বাসটিতে দুজন চালক ছিলেন। বসনিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মেদজুগোরিয়া এলাকায় অবস্থিত ‘ভার্জিন মেরি’র একটি উপাসনালয় থেকে পোল্যান্ডে ফিরছিল বাসটি। দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আশপাশে অবস্থিত চারটি শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পোল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত লুবেনিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা এবং দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা যাত্রী হেলেনা তলুচেক হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জানান, তিনি পোল্যান্ডে তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। এমন সময় বাসটি হঠাৎ উল্টে যায় এবং গড়াতে থাকে। দুর্ঘটনায় তাঁর পাঁজর ভেঙে গেছে এবং কাঁধ ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। মাথায় আঘাত পেলেও দুর্ঘটনার কিছু স্মৃতি তাঁর মনে আছে।
হেলেনা বলেন, ‘বাসের সব আসন উপড়ে গিয়েছিল। মানুষ সিটের নিচে চাপা পড়েছিল এবং সবাই বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল।’ তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া দুই যাত্রীকে টেনে বের করেন এবং নিজের হাত দিয়ে কোনোমতে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে বাস থেকে বের হন। অচেতন হওয়ার আগে হেলেনা তাঁর বোনকেও টেনে বের করতে পেরেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমি পেছনে তাকালাম...বাসের ভেতরের অবস্থা যে কী ভয়াবহ ছিল, তা কল্পনাও করা যায় না।’
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হাঙ্গেরিতে পোলিশ বাসের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে আমি গভীরভাবে ব্যথিত। এতে আমাদের দেশের অনেক নাগরিক মারা গেছেন।’ এর আগে ২০০২ সালের জুলাই মাসে হাঙ্গেরির পশ্চিমাঞ্চলে লেক বালাটনের কাছে পোলিশ তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি পর্যটক বাস উল্টে ২০ জন নিহত হয়েছিলেন।