
ইরান যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের কাছে সাহায্য চেয়েছে। তাদের প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে নিতে চেয়েছে। তবে যথারীতি হতাশ হতে হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ জানিয়েছেন, ইরানের হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে পোল্যান্ড তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, পেন্টাগনের কাছে ‘অফুরন্ত’ অস্ত্রের মজুত রয়েছে। তা সত্ত্বেও ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ ওই অঞ্চলে ইরানি সক্ষমতাকে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে।
গত মঙ্গলবার পোলিশ সংবাদপত্র জেসপসপোলিটা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের জন্য পোল্যান্ডের কাছে থাকা অন্তত দুটি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম এবং পূর্বে পোল্যান্ডের কাছে বিক্রি করা পিএসি–৩ এমএসই ক্ষেপণাস্ত্র ধার চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোসিনিয়াক-কামিশ মঙ্গলবার এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আমাদের প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি এবং এর অস্ত্রশস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমা এবং ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আমরা এগুলো কোথাও সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’
পোলিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমাদের মিত্ররা পুরোপুরি বোঝেন, এখানে আমাদের এই মিশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পোল্যান্ডের নিরাপত্তা আমাদের কাছে নিরঙ্কুশ অগ্রাধিকার।’
ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ৩৫০ জন। স্যাটেলাইট চিত্র ও ঘটনাস্থলের ফুটেজ অনুযায়ী, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বেশ কিছু দামি মার্কিন রাডার এবং একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস’ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের সমালোচনা করেছেন। তিনি এই সামরিক জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধের অন্যতম সোচ্চার বিরোধী দেশ হলো স্পেন, যারা ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা বা যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করেছে।