টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ভবন
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ভবন

টাওয়ার হ্যামলেটসে ভোটের আগে মেয়র লুৎফুর রহমানের ওপর বাড়তি চাপ

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ওপর সরকারের তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে। কাউন্সিলের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে নিযুক্ত প্রতিনিধিদের।

গত মঙ্গলবার ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে যুক্তরাজ্যের হাউজিং, কমিউনিটিজ অ্যান্ড লোকাল গভর্নমেন্টবিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট (মন্ত্রী) স্টিভ রিড একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে আগের নির্দেশনা পরিবর্তন করে সংশোধিত নির্দেশনার মাধ্যমে এনভয়দের কাছে কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষমতা দেওয়ার কথা জানানো হয়, যাতে প্রয়োজন হলে তাঁরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

আগামী মে মাসে আসন্ন মেয়র নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের এই কঠোর নজরদারিকে টাওয়ার হ্যামলেটসের বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমানের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন সেক্রেটারি অব স্টেট মাইকেল গোভ কাউন্সিলের ওপর প্রাথমিকভাবে সরকারের ‘এনভয়’ (প্রতিনিধি) নিয়োগের ঘোষণা দেন। তখন সরকারের মূল্যায়নে দেখা যায়, কাউন্সিলটি আইন অনুযায়ী সুশাসন নিশ্চিতের বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনায় সরকারি প্রতিনিধিদের কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, কৌশলগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সেবার কাঠামো পুনর্গঠন এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ও অপসারণসংক্রান্ত বিষয়ের ওপরও তাদের তদারকি থাকবে।

প্রতিনিধিদলের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগিরই অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞসহ একজন অতিরিক্ত সহকারী প্রতিনিধি নিয়োগের কথাও বিবৃতিতে বলা হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটসের বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাউন্সিলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বকে বাস্তব সমস্যাগুলো স্বীকার করে দ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। সংগঠনের প্রতিটি স্তরে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও তার প্রমাণ থাকতে হবে। প্রতিনিধিরা এই পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজন হলে নেতৃত্বকে জবাবদিহির আওতায় আনবেন।

আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় ও মেয়র নির্বাচন সুষ্ঠু করা নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় বিবৃতিতে।

সরকার জানিয়েছে, এই হস্তক্ষেপ কার্যক্রমের ব্যয় কাউন্সিলকেই বহন করতে হবে। তবে নির্দিষ্ট সময় পর প্রতিনিধিদের ভূমিকা ও নির্দেশনা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। যদি কাউন্সিলের কার্যক্রমে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক উন্নতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কিছু দায়িত্ব কাউন্সিলের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুৎফুর রহমান। তিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে আবার ক্ষমতায় আসেন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিতর্কমুক্ত নয়। এর আগে ২০১৫ সালে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে আদালতের এক রায়ে তাঁকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয় এবং পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এর ফলে তিনি দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে ছিলেন। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ২০২২ সালে আবার মেয়র নির্বাচিত হন।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে সরকারের প্রতিনিধি নিয়োগ ও কঠোর নজরদারির বিষয়ে মেয়র লুৎফুর রহমানের বক্তব্য জানতে চেয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে তাঁর জনসংযোগ দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে সরাসরি তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতি দেখতে পরামর্শ দেওয়া হয়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির কথা জানানো হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে স্বীকার করা হয়। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নেওয়া হয়।