ব্রিটিশ পাউন্ড
ব্রিটিশ পাউন্ড

শতবর্ষী বাড়ির দেয়ালে পাওয়া গেল ‘গুপ্তধন’

পুরোনো বাড়ি বা ঘরের এক কোণ পরিষ্কার করতে গিয়ে হঠাৎ গুপ্তধন পাওয়ার গল্প আমরা অনেকেই শুনেছি। তবে এবার আর কোনো গল্প নয়, বাস্তবে এমনই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক দম্পতি। নিজেদের শতবর্ষী বাড়ির গোপন দেয়াল ভেঙে তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন দশকের পর দশক ধরে লুকিয়ে রাখা গুপ্তধন।

যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডের বাসিন্দা লুইসা ও তাঁর স্বামী ড্যান থাকেন প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি বাড়িতে। ২০২০ সালে করোনা মহামারির লকডাউনের সময় তাঁরা বাড়ির বেজমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ কক্ষটি পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিষ্কার করার সময় সিঁড়ির নিচে একটি দেয়াল তাঁদের নজরে আসে। দেয়ালটি ইট দিয়ে বন্ধ করা ছিল। কৌতূহলবশত তাঁরা দেয়ালটি ভেঙে ভেতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেন।

দেয়ালটি ভাঙার পর ড্যান ভেতরে প্রচুর কয়লা দেখতে পান। সব কয়লা সরিয়ে ফেলার পর একেবারে নিচে একটি অদ্ভুত রঙের কৌটা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। কৌটাটি থেকে তীব্র অ্যামোনিয়ার গন্ধ বের হচ্ছিল। এই ঝাঁজালো গন্ধের কারণে ভয়ে তাঁরা বেশ কয়েক মাস কৌটাটি খোলার সাহস পাননি। অবশেষে একদিন কৌতূহল মেটাতে পুরো পরিবার মিলে এটি খোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

মরিচা ধরা স্যাঁতসেঁতে কৌটাটি খোলার পর ড্যানের পরিবারের সবাই অবাক হয়ে যান। কৌটার ভেতর কাগজের মোড়কে কিছু একটা ছিল। তাঁরা সাবধানে সেটি খোলেন। ভেতরে স্তূপ করে রাখা ব্যাংক নোট দেখে তাঁদের চোখ কপালে ওঠে। এগুলো ছিল মূলত ১৯৭০-এর দশকের পাঁচ পাউন্ডের নোটের বান্ডিল। সব মিলিয়ে সেখানে এক হাজার পাউন্ডের বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় লাখ টাকা) ছিল।

লুইসা সেই সময় বেকার ছিলেন। তাই অপ্রত্যাশিত এই টাকা তাঁদের জন্য বড় এক আশীর্বাদ হয়ে আসে। ভেজা টাকাগুলো শুকিয়ে তাঁরা ব্যাংকে জমা দেন। এই টাকা দিয়ে তাঁরা বকেয়া বিল পরিশোধ করেন এবং সন্তানদের জন্য টুকটাক জিনিস কেনেন। টিকটকে এ ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করার পর তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরাও এই চমৎকার ঘটনা দেখে বেশ অবাক হয়েছেন।